প্রচার ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে দুই সিনেমা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ০২:৫২ এএম

গত ২৫ মার্চ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে নতুন সিনেমা। একটি নয়, দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এ সপ্তাহে। অবাক করা বিষয় হলো, ছবি দুটির বিষয়ে দর্শকরা তো দূরের কথা, খোদ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরাও তেমন কিছু জানেন না। যে সব অভিনয়শিল্পী কাজ করেছেন তাদের কেউ কেউ পরিচিত মুখ হলেও নিজেদের জায়গা থেকেও করেননি কোনো ধরনের প্রচারণা। এমনিতেই সিনেমাশিল্পের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর এভাবে প্রচার-প্রচারণা ছাড়া ছবি প্রেক্ষাগৃহে গেলে বক্স অফিস রিপোর্ট আরও খারাপ আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। তারা মনে করছেন, যেন কোনোমতে ছবি মুক্তি দিতে হবে দেওয়া হয়েছে। এর ভবিষ্যৎ কী হবে? প্রযোজকের লগ্নিকৃত অর্থ কতটা ফেরত আসবে তা নিয়ে যেন তারা ভাবছেনই না।

যাইহোক, গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে যে দুটি সিনেমা তার একটির নাম ‘লকডাউন লাভ স্টোরি’। নাম শুনলেই বোঝা যাচ্ছে, ছবিটি নির্মিত হয়েছে করোনাকালকে উপজীব্য করে। ‘আপন মানুষ’ খ্যাত নির্মাতা শাহ আলম ম-ল এই ছবির পরিচালক। তিনি জানান, ‘করোনায় বহু আপনজনের মৃত্যু দেখেছে বিশ্ব, সামাজিক দূরত্বে থাকতে থাকতে মানুষকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়তে দেখেছে বিশ্ব। এখানেই থেমে ছিল না করোনা মহামারী। এ রোগে আক্রান্ত প্রিয়জনদের সৎকারের ব্যবস্থা করার অনুমতিও ছিল না সুস্থ দেহের কারও। ঝুঁকি জেনেও তাই প্রিয়জনের অনতিদূরে অশ্রুসজল প্রার্থনা। দেশে দেশে তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকার কঠোর নির্দেশনা, যাকে বলে ‘লকডাউন’। বিশ্ব যখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তখন বাংলাদেশে করোনায় ‘লকডাউনকে’ বিষয়বস্তু করে প্রথমবারের মতো সিনেমা নির্মাণ করেছি আমি।’

এ চলচ্চিত্রে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ইমন ও সংবাদ পাঠিকা রেহনুমা মোস্তফা। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় সিনেমাটির প্রিমিয়ার শো। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রজেকশন হলে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন। শাপলা মিডিয়া নিবেদিত শুভ কথাচিত্রের ব্যানারে প্রিমিয়ার শো দেখতে সেদিন উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অঙ্গনের গুণিজনরা। পরিচালক জানান, ‘এ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা শুরু হওয়ার পর ইমন অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরে। ফিরেই মা, ভাই, ভাবি থেকে তাকে দূরে দূরে থাকতে হয়। এমনকি অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা পর্যন্তও করতে পারে না। স্বভাবজাত নিয়মেই তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হয়। এ সময়ে পাশের বাড়ির মেয়ে রেহনুমা মোস্তফার সঙ্গে পরিচয় হয়। দুজনের মনে গভীর প্রেম জন্ম নেয়। কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করে না। হঠাৎ কয়েকদিন ধরে ইমন রেহনুমাকে ছাদে দেখতে পায় না। এরপর গল্পের মোড় নেয় অন্যদিকে।’

মুক্তিপ্রাপ্ত আরেকটি সিনেমার নাম ‘জাল ছেঁড়ার সময়’। সাজ্জাদ হায়দারের কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনায় নির্মিত ‘জাল ছেঁড়ার সময়’ সিনেমায় স্বপ্নবাজ দুই তরুণের গল্প তুলে আনা হয়েছে। নির্মাতা জানান, এক মফস্বল শহরের দুই তরুণ আবিদ ও আমান। দেশ ও বিশ্বরাজনীতি যাদের নখদর্পণে। শহরের প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটি। এ চলচ্চিত্র দুজনকেই দারুণ নাড়া দেয়। একজন হতে চায় বিপ্লবী, আরেকজনকে পেয়ে বসে চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার ভূত। এভাবেই এগোতে থাকে ‘জাল ছেঁড়ার সময়’ সিনেমার কাহিনী।

এতে অভিনয় করেছেন আশিক, ইমন, এমদাদ, সুস্মিতা, অঞ্জলি, মন্টি, রানা প্রমুখ। সিনেমাটি নিয়ে পরিচালক বলেন, ‘জাল ছেঁড়ার সময় অবশ্যই ডিরেক্টরস মুভি। এ চলচ্চিত্রে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের স্টারস ভ্যালু বিবেচনা করা হয়নি। প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সে সময়ের উপকরণ। এ কারণে কিছুটা হলেও এ সমস্যার সঙ্গে আপস করতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একাত্তরের ঢাকার সঙ্গে এখনকার ঢাকার কোনো মিল নেই। রাজপথ তো বটেই, প্রতিটি অলিগলি পাল্টে গেছে। পাল্টে গেছে যানবাহন, মানুষের পোশাক-আশাক। একই অবস্থা ঢাকার বাইরের শহরগুলোতেও। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও একাত্তরের ঢাকা শহরকে মনের মতো করে উপস্থাপন করা যায়নি। হয়তো বিপুল অর্থ ব্যয় করতে পারলে এ অভাব পূরণ করা যেত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত