চাঁদাবাজি-হুমকি-মারধরের অভিযোগে ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ১০:৪৩ পিএম

ফরিদপুরে মারপিট, চাঁদাবাজি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

রবিবার জেলার ছয় নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ঠেনঠেনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তকি মোল্লার ছেলে মো. মুরাদ মোল্লা (৪৬)।

মুরাদ মোল্লা গট্টি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুজ্জামান ও ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হান্নান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরে মামলাটি তদন্তে ফরিদপুর পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় তদন্তের জন্য ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গট্টি ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের তিন বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মুরাদ মোল্লার কাছে ২০২১ সালের ১১ই নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে সালথা থানার ওসি বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় নির্বাচন করতে দেবেন না বলে ভয়ভীতি দেখান। পরে ভুক্তভোগী (মুরাদ) বাধ্য হয়ে ওসিকে ৭৫ হাজার টাকা দেন।

ধারাবাহিকতায় ওসি বিভিন্ন সময়ে আরও এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরেও ভুক্তভোগীকে তিনটি মিথ্যা মামলায় আসামি করেন ওসি।

আরও বলা হয়, ঘটনার রেশ ধরে গত ১৪ মার্চ রাত অনুমান একটার দিকে ভুক্তভোগীর ভাই জিহাদকে ঘুমানো অবস্থায় কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করেন সালথা থানার ওসি।

ভুক্তভোগী মুরাদ পরদিন সকাল ১০টার দিকে সালথা থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানতে চান, কোন মামলায় তার ভাইকে ধরা হয়েছে? উত্তর না দিয়ে ওসি মুরাদের ভাইকে ছেড়ে দিতে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তার মতো তার ভাইকেও তিনটি মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেবেন বলে হুমকি দেন।

দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে ভুক্তভোগীকেও এ সময় গ্রেপ্তারের ভয় দেখান ওসি।

দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় ওসির হুকুমে এসআই হান্নান ভুক্তভোগীর ভাই জিহাদকে থানা হাজত খানা থেকে অন্য এক রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরে নীলাফুলা জখম করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় জিহাদকে মিথ্যা মামলার আসামি করে আদালতে প্রেরণ করেন।

ওই মামলায় গত ২৩ মার্চ জামিনে মুক্তি পেলে ভুক্তভোগীর ভাইয়ের শরীরের আঘাত দেখতে পান পরিবারের লোকজনেরা। পরে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার ভাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ খবরটি বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশের পর রবিবার বিকেলে সালথা থানায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওসি মো. আশিকুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, সালথা থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রকাশিত ‘চাঁদা না পাওয়ায় ঘুমন্ত জিহাদকে তুলে এনে বেধড়ক পিটানোর অভিযোগ’ সংবাদটি তারা দেখেছেন। এই সংবাদের প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, সালথা থানা এলাকা ঐতিহ্যগতভাবে কাইজ্জা ও দাঙ্গাপ্রবণ। আমি অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সালথা থানায় যোগদানের পর সমস্যা সমাধানে অফিসার ও ফোর্স নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

দাঙ্গা দমনে সালথা পুলিশ সফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশিসেবা গ্রহণে সালথাবাসী যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক সভা সেমিনারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ওসি বলেন, মুরাদ মোল্লা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ভাঙা পা জনসম্মুখে প্রদর্শন করে মানুষের সহানুভূতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। এখন আসামি জিহাদকে মারপিট করে টাকা দাবি করার মনগড়া, বানোয়াট এবং মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন।

দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিষয়ে ফরিদপুর পিআিইবির পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশ পেলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। দোষী প্রমাণিত হলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ করলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত