সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম— টপ-অর্ডারের এই চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তিতে দিন পার করতে দিলেন না সাইমন হার্মার। ডারবান টেস্টের দ্বিতীয় দিনের নায়ক হয়ে থাকলেন দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার।
ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৮ রানের পর ৪ উইকেট; বাংলাদেশের লড়াই মাটি করে দিলেন হার্মার। একের পর এক সঙ্গীকে হারালেও সফরকারীদের ভরসা হয়ে আছেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটির জন্য তার দরকার আর ৬ রান।
সাদমান (৯) বোল্ড হওয়ার পর শান্তকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়। দুজনে ৫৫ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন। কিন্তু দলীয় ৮০ রানে বোল্ড হন সেট ব্যাটার শান্ত (৩৮)। স্কোরবোর্ডে আর কোনো রান যোগ না হতেই শূন্য হাতে বিদায় নেন মুমিনুল।
টাইগার অধিনায়কের ফেরার পর অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকেও (৭) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি হারমার। লেগ-স্টাম্পের বাইরে বল টোকা দিতে গিয়ে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনের গ্লাভসবন্দী হন তিনি। তার আগেও হারমারের বলে একইরকম ব্যাট চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান মুশফিক।
চার উইকেট হারানোর পর নাইট-ওয়াচ ম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে আসেন তাসকিন আহমেদ। ৬ বল খেলে কোনো রান না করলেও কাজটা ঠিকমতোই করেছেন এই পেসার। দ্বিতীয় দিন প্রথম ইনিংস শুরু করে ৪৯ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। তাতে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৮ রান। টাইগাররা পিছিয়ে আছে ২৬৯ রানে।
৪ উইকেটে ২৩৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে দ. আফ্রিকা। শুরুতে খালেদ আহমেদের জোড়া শিকারের পর ৪ উইকেট নিয়ে প্রথম সেশনে নিজেদের এগিয়ে রাখে বাংলাদেশ। তার মধ্যে টেম্বা বাভুমাকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৯৩ রানে বোল্ড হন এই মিডল-অর্ডার ব্যাটার। ভেরেইনেকে নিয়ে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে দিন শুরু করেছিলেন বাভুমা।
তবে শেষ উইকেট জুটিতে টাইগারদের ভুগিয়েছেন হার্মার ও ডুয়ান্নে অলিভিয়ের। দুজনের ৩৫ রানের জুটি ভাঙলে দ. আফ্রিকার প্রথম ইনিংস থামে ৩৬৭ রানে। ১২১ ওভার ব্যাট করেছে প্রোটিয়ারা। ২৯৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসেছিল স্বাগতিকেরা। সেখান থেকে প্রোটিয়াদের বড় পুঁজি এনে দেন হার্মার।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিন ৩ উইকেট নেন খালেদ। মোট ৪ উইকেট নিয়ে টাইগারদের সফল বোলার এই পেসার। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ার সেরাও। ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। এবাদত হোসেনের শিকার ২ উইকেট।
