কূপ থেকে বালু আসায় বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২২, ১০:২০ পিএম

মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ছয়টি কূপ থেকে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আজ রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এই সমস্যা আরো কয়েকদিন থাকবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

কূপ থেকে তোলার পর প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পাইপলাইনে বিশুদ্ধ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আর গ্যাসের সঙ্গে আসা নানা উপজাত আলাদা করে ফেলা হয়।

পেট্রোবাংলা ও শেভরন সূত্র বলছে, দুপুরে হঠাৎ মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে বালু উঠে আসে। কোন কূপ থেকে উঠছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তাই জরুরি ভিত্তিতে ছয়টি কূপের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শেভরন বাংলাদেশের মুখপাত্র শেখ জাহিদুর রহমান সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের দুটি ইউনিটে বেলা সোয়া একটা থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে গ্যাসের উৎপাদন কমে গেছে। পুরোপুরি উৎপাদনে ফেরানোর কাজ চলছে। কখন আবার উৎপাদন শুরু হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিবিয়ানা বর্তমানে সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র। হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে গ্যাসের সরবরাহ কমতে থাকে। ঢাকার গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রে দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভোক্তারা অভিযোগ জানাতে থাকেন।

সূত্রে জানা গেছে, দেশে দিনে ৩৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও শনিবার মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২৭৯ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে বিবিয়ানা থেকে সরবরাহ করা হয় ১১৫ কোটি ঘনফুট। রবিবার দুপুরের পর থেকে বিবিয়ানায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে যায়। এতে বাসার চুলায়, শিল্পকারখানায় ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ কমতে থাকে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরবরাহ কমায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কিছুটা কমানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। ময়মনসিংহসহ কিছু এলাকায় লোডশেড হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে দুঃখপ্রকাশ করে রোববার দুই দফা বিবৃতি দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রথম দফায় বলা হয়, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সৃষ্টি হতে পারে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় দফা বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

রবিবার সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সৃষ্টি হতে পারে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দেয়।

ইফতারের আগ মুহূর্তে এ রকম সংকট দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। সারাদিন রোজা রাখার পর পরিবারের সদস্যদের জন্য ইফতার তৈরি করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই।

এদিকে এসব এলাকায় হোটেল ও ইফতারের দোকানগুলোতে তীব্র ভিড় দেখা গেছে ক্রেতাদের। অনেক ক্রেতাকেই ইফতার না কিনেই বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বাসায় থাকা কেরোসিনের স্টোভে ভরসা করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রমজানের প্রথম দিনে এভাবে গ্যাস না থাকায় আমাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। এটা রমজানের প্রথম দিনে কোনো মতেই কাম্য নয়।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফেরদৌসি বলেন, সকাল থেকে কোনো রান্নাবান্না করা সম্ভব হয়নি। প্রথম রোজায় বাইরের খাবার কিনে খেতে হবে।

মিরপুরের কাজিপাড়ার সুলতানা মাহমুদ বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের সংকটে নিভু নিভু করে চুলা জ্বলছে। কোনো কিছুই করা যাচ্ছে না। রমজানে এ রকম পরিস্থিতি হবে চিন্তাও করা যায় না। বাধ্য হয়ে স্টোভে রান্না করতে হয়েছে।

ধানমন্ডির গ্রিন রোড এলাকায় দুপুরের আগে থেকেই গ্যাস সংকট চলছে। ইফতারের সময় হয়ে হলেও সিদ্ধেশ্বরীতে এখনো চুলা জ্বলছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত