ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর নেপথ্যের চার খেলোয়াড়

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ০২:৩০ পিএম

এক সপ্তাহব্যাপী নাটকের অবসান হয়েছে শনিবার রাতে। মেয়াদ শেষের আগেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আস্থা ভোটে হেরে গিয়ে গদি ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রধান ইমরানকে। তার এই হারের নেপথ্যে কুশীলব হিসাবে পাকিস্তানের চার জনের নাম উঠে আসছে। কে তারা?

 

শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের চার বারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই। ইমরানের মতো প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ নওয়াজও শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে নওয়াজ ব্রিটেনে নির্বাসিত।

সত্তর বছর বয়সী শাহবাজ পাকিস্তানের রাজনীতিতে বর্তমানে বিরোধীদের অন্যতম মুখ। সপ্তাহব্যাপী রাজনৈতিক নাটকে তার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি চর্চিত। বর্তমানে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি। এর আগে তিনি পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

পাকিস্তানের শিল্পপতি পরিবারের ছেলে। আবেগপ্রবণ অথচ শক্তিশালী বক্তব্য রাখার জন্য তিনি খ্যাত। বক্তৃতায় কবিতা উদ্ধৃত করেন। প্রশাসক হিসাবে যথেষ্ট কঠোর বলেও পরিচিত তিনি।

একাধিক বিবাহ। লন্ডন ও দুবাইয়ে তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থাকার জন্য তিনি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন। এসব সত্ত্বেও পাকিস্তানে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়।

image

আসিফ আলি জারদারি

পাকিস্তানের ধনী সিন্ধু পরিবার থেকে আসা জারদারি তার নারীসঙ্গ এবং ‘প্লেবয়’ ধরনের জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৭ সালে বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে বিয়ে হয়। তার পরের বছরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন বেনজির।

রাজনীতির সঙ্গে দুর্নীতিতেও তার নাম জড়িয়েছে। জারদারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থের বিনিময়ে সরকারি চুক্তি পাইয়ে দিতেন। এ জন্য তার নাম হয়েছিল ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’! দুর্নীতির অভিযোগে তার দুবার জেলও হয়’।

২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর পর পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কো চেয়ারম্যান হন। এক বছর পর পিএমএল-এন-এর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন।

image

বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি

বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির ছেলে। মায়ের হত্যার পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পিপিপি-র চেয়ারম্যান হন।

পড়াশোনা অক্সফোর্ডে। ৩৩ বছর বয়সি বিলাওয়াল মায়ের মতোই প্রগতিশীল হিসাবে পরিচিত। প্রায়শই নারী এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন।

অনলাইনে পাকিস্তানের তরুণদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয় তিনি। তবে মাঝেমধ্যে ভুল উর্দু লেখার জন্য সমলোচিত হন।

 

মৌলানা ফজলুর রহমান

কট্টর ইসলামপন্থী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করার পর, পরবর্তীকালে নমনীয় ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত হন। ধর্মনিরপেক্ষ ও বামদলগুলোর জোটও গঠন করেন তিনি।

তার দল জামিয়াতুল উলেমা-ই-ইসলাম (এফ)-এর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা না থাকলেও, সরকার গড়ার অন্যতম কারিগর হতে পারেন।

ইমরান খানের সঙ্গে তার শত্রুতা বহু চর্চিত। জেমাইমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে তার বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে ইমরানকে ‘ইহুদি’ বলেন।

তবে ইমরাান পাল্টা তাকে ‘মোল্লা ডিজেল’ বলেন। জ্বালানি লাইসেন্স দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে এই নামে সম্বোধন করতেন ইমরান খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত