রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শের-ই-বাংলা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হল থেকে ওই ছাত্রের জিনিসপত্র বের করে এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে তুলে দেন ওই নেতা।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রাতুল। তিনি শের-ই-বাংলা হল ছাত্রলীগের সভাপতি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আকিব জাভেদ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি শের-ই-বাংলা হলের ১২৯ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। অনাবাসিক ওই শিক্ষার্থীর নাম কমল কুমার পাল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আকিব বলেন, ‘গত ১ মার্চ আমি হলে উঠি। প্রথম দিকে ফ্লোরিং করে থাকতাম। গত ৮ এপ্রিল আমি সিট পাই। কিন্তু গতকাল (সোমবার) রাত ১২টার দিকে হলের ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর আমার কক্ষে এসে বলেন, ‘তোমাকে কে তুলেছে এই বেডে। তোমার সাহস তো কম নয়, তুমি এই বেডে উঠেছ! এই হলে তোমাকে যেন আর না দেখি। কাল সকাল ৯টার মধ্যে এখান থেকে বের হয়ে যাবি না হলে বিছানাপত্রসহ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তোকে বের করে দেব।’ এই বলে চলে যান।
পরে আজ সকাল ৯টায় রাতুলের নেতৃত্বে সাত থেকে আটজন এসে আমার তারা বইপত্রসহ সব জিনিস বাইরে ফেলে দেন।
আকিব বলেন, ‘এখন আমার আর যাওয়ার জায়গা নেই। কোথায় যাব? হলে এলে ছাত্রলীগ মারতে পারে।’ তবুও তিনি হলেই থাকবেন। ওই সময় প্রাধ্যক্ষকে ফোন দিলেও ধরেননি বলে অভিযোগ করেন আকিব।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে রাতুল বলেন, ‘ওই ছেলেটির আবাসিকতা থাকতে পারে তবে ওই রুমের কোনো কার্ড বা আবাসিকতা নাই। ওই রুমে আমার এক বন্ধু থাকত। সে চলে গেলে আমি ওই রুমে আমার এক ছোট ভাইকে ওঠাতে চেয়েছিলাম। গত পরশুদিন ওই সিটে আকিব নামে ওই ছেলেটা ওঠে।’
এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আজ সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছে সবকিছু শুনেছেন। ওই শিক্ষার্থী হলের এবং ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। আকিব ওই কক্ষে আজ থেকেই থাকবেন। এ বিষয়ে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
