স্কুলব্যাগ কাঁধে বাড়ির সামনেই প্রাণ গেল শিশুর

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪৪ পিএম

স্কুল ছুটি। হই চই করতে করতে স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে এক ভোঁ দৌড়। অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে খুনসুটি করতে করতে বিদ্যালয়ের মাঠ পাড়ি দিয়ে অটোতে চেপে বসে শিশু মালিহা। আরও সহপাঠী ছিল অটোরিকশায়। নেমে যায় যার যার বাড়ির কাছে। আর একটু এগিয়ে নিজের বাড়ির সামনে নামতেই মালিহার সব উল্লাস চিরতরে শেষ।

দ্রুতগতির এক বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চাপা দিলে মুর্হূতেই নিভে গেল সদা হাস্যোজ্জ্বল শিশু মালিহা মমতাজের প্রাণ প্রদীপ।

সড়কে পড়ে মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের পাঠানটেক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মালিহা মমতাজ (৬) স্থানীয় পাঠানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পাঠানটেক এলাকার ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দীন মিন্টুর মেজো মেয়ে। এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শিশু সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

নিহত মালিহার চাচা ইউসুছ আলী জানান, সকালে স্কুলে যায় মালিহা। স্কুল ছুটি হওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠীদের নিয়ে একটি অটো রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে অন্যরা (শিক্ষার্থী) নেমে পড়ে। তাকে বহন করা অটোরিকশা বাড়ির কাছে আসলে সে নামতে চেষ্টা করে। এ সময় পশ্চিম দিক থেকে দ্রুতগতির একটি বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এ সময় মালিহার মাথা থেঁতলে ও গলায় অটোর একটি রড ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে। রক্তমাখা স্কুল ড্রেস আর ব্যাগ নিয়েই সড়কে নিথর পড়ে ছিল মালিহা।

স্থানীয়রা অটোরিকশা আটক করে। চালক পালিয়ে গেছে।

 পাঠানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নুরজাহান বেগম বলেন, আজও মলিহার শেষ শ্রেণি ক্লাসটা আমি নিয়েছি। ক্লাস শেষে অন্য শিশুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করতে করতে স্কুল ছাড়ল। ঘণ্টাখানেক পরেই এমন মর্মান্তিক খবর আসল। একেবারে বিশ্বাস করতে পারছি না মালিহা মারা গেছে।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই রিপন আলী খান জানান, পরিবারের মানবিক আবেদনের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশু মালিহার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত