সেই ছয় তরুণের বিরুদ্ধে চাইলে মামলা করতে পারবেন তরুণী: পুলিশ

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৭ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক তরুণীকে সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা বলে দুই হাত দিয়ে তার চোখ বন্ধ করে ধরেন এক তরুণ। এসময় ধীরে ধীরে রেস্তোরাঁয় একে একে পাঁচজন তরুণ প্রবেশ করলে তরুণটি তরুণীর চোখ খুলে দেন। এরপর ওই তরুণীকে ছয় যুবক নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

এসবের মধ্যে অন্যতম অভিযোগ, মেয়েটি নাকি একই সঙ্গে তাদের ছয় জনের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে গেছেন।

‘স্টার গল্প’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ওই ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, মিরপুরের ওই রেস্তোরাঁয় ছয় যুবক মিলে তরুণীর কাছে নানা প্রশ্নের জবাব চাইছেন। একসময় তরুণী হাত থেকে একটি বস্তু ছুড়ে মারেন এবং কান্নাও করে ফেলেন।

রোমান হক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও কয়েকটি ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে একজন বলছেন, মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্কে এমনভাবে জড়িয়েছিলেন যে তিনি সাইকো হয়ে গিয়েছিলেন। মেয়েটিকে তিনি অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন। তার স্বজন বন্ধুবান্ধবরাও ওই মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলতেন, তিনি শুনতেন না। মেয়েটিকে দামি উপহারসামগ্রী দিতেন। একটা সময় তিনি তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি একই সঙ্গে ছয় জনের সঙ্গে প্রেম করছে । এরপর তিনি সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে মিরপুরের ওই রেস্তোরাঁয় ডেকে আনেন। যুবকের দাবি, তারা সকলেই তার প্রেমিক।

রোমান হকের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি ভিডিওসহ পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ২৪ হাজার। মন্তব্য পড়েছে প্রায় ৬ হাজার। আর লাইক পড়েছে ৫৩ হাজার। এ ছাড়া ১০টি অ্যাটাচমেন্ট পৃথকভাবে লাইক শেয়ার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পোস্ট থেকেই ‘স্টার গল্প’ নামের ফেসবুক পেইজ ভিডিওটি বানায়। যেখান থেকে প্রায় অর্ধকোটিবার ভিডিওটি দেখা হয়েছে।

এই ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল প্রতিক্রিয়া হয়েছে। গতকাল দিনভর এই ঘটনায় ট্রল, সমালোচনা, মিম চালানো হয়েছে। ভিডিওটি পরে শত শত পেজ ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়। ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নাজমুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মেয়েটির অপরাধ থাকলেও আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না’। তিনি মনে করেন, অনলাইনে হেনস্থা মোটেও কাম্য নয়। তিনি বলেন, ‘যারা এই ভিডিও বা ছবি ছড়িয়েছে সেটা সাইবার অপরাধ। ওই মেয়ের নৈতিক সমস্যা থাকলে সেটার সমাধান মোটেই অনলাইনে হেনস্থা নয়। হয়তো ওই মেয়ের কাউন্সেলিং দরকার, তবে কাউকে এভাবে হেনস্থা করার অধিকার নাই কারো, আইন তো নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না!’

নাজমুল হক আরও বলেন, ‘নয় বা ছয়, সংখ্যা যেটাই হোক, এটার জন্য আপনি কতখানি নৈতিক বিচ্যুতির বা প্রতারণার অভিযোগ তুলবেন সেটা আপনার অধিকার এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইন মোতাবেক সুবিচার পাবেন সেটাও অধিকার। তবে এটা আপনার অনধিকার ও অপরাধ যে আপনি তাকে মানুষের সামনে প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থা করবেন। বলা বাহুল্য, ওই মেয়ের এখন এটা অধিকার হলো যে, সে তার কথিত প্রেমিক ওই ৬ তরুণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে বিপদ অত্যাসন্ন!’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত