পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে ড. বেনজীর আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণের দু'বছর পূর্তি উপলক্ষে সহকর্মীরা আয়োজন করেছে আলোচনা অনুষ্ঠানের।
বুধবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মনিরুল ইসলাম, ডিআইজি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পুলিশ ইন্সপেক্টর বি এম ফরমান আলী।
বেনজীর আহমেদ বলেন, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই মানুষের জীবন। সময় এক বহতা নদী। সময় চলে যায়, জীবন থেমে থাকে না। সংগঠনও জীবনের ন্যায়। এ জন্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে, সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা প্রতিনিয়ত সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।
কোনো অন্যায় বা অদক্ষতার সঙ্গে পুলিশ জড়িত না হোক এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইজিপি।
আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা একটি ভূখণ্ড, একটি পতাকা পেয়েছি। বাঙালি পরাভব না মানা জাতি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য দেশ ও দেশের জনগণ। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।
আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়। আমরা উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নের বন্দরে পৌঁছাব।
বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ চাকরির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন এ তিনটি জায়গায় কাজ করা খুব দরকার।
তিনি তার সময়ে সবার সহযোগিতায় কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগ বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কনস্টেবল পদে 'বেস্ট অব দ্য বেস্ট' প্রার্থী নিয়োগ করা হয়েছে, যার সুফল দেশের জনগণ খুব শীঘ্রই পাবেন।
তিনি এএসপি পদে নিয়োগ বিধিতেও সংস্কার আনার সময় এসেছে বলে উল্লেখ করেন।
করোনাকালে দেশ ও জনগণের সেবায় পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশ জনগণের যে ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছে তা অভূতপূর্ব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আইজিপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি মো. মনিরুল ইসলাম, এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. কামরুল আহসান, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, সিআইডির কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আইজিপির কর্মকালীন খণ্ডচিত্রের ভিত্তিতে নির্মিত দুটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইজিপিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকদের অভিমতের ভিত্তিতে 'পরিবর্তনের পরিক্রমা: নাগরিক অভিমত' এবং বিট পুলিশিংকে উপজীব্য করে রচিত 'দুর্জয়ের ডায়েরির' দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
