সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলের হোস্টেল সুপারভাইজার ও শিক্ষক ডা. কাজী রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে ৬ শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন, মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলের মেডিকেল অফিসার ও হোস্টেল সুপার ডা. কাজী রফিকুল আলম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া ও সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ক্লাসে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল বার্তা প্রদান করে কু-প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে প্রতিটি মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ডা. আকিকুন নাহারকে অবগত করেও কোনো প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা। ফলে অনেকে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, লিখিত অভিযোগ দাখিলের পরে তাদের মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো কথা শোনেন নাই।
ওই অভিভাবক বলেন, প্রতিকার না পেয়ে একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা বাদ দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলের হোস্টেল সুপার ডা. রফিকুল আলম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার মান সম্মান নষ্ট করার জন্য তারা বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যা আদৌ সত্য নয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলের অধ্যক্ষ ডা. আকিকুন নাহার জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায় জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
