নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর জান্নাতুল ফেরদৌস তাসফিয়াকে (৪) গুলি করে হত্যা মামলায় চার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
এ ছাড়া মামলার প্রধান আসামি মো. রিমন দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রক্রিয়া চলছে।
রিমান্ডে নেওয়া আসামি হলেন- সুজন, সোহেল উদ্দিন, নাইমুল ইসলাম ও আকবর হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
একই দিন সন্ধ্যা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ডিবি) সাইফুল ইসলাম চার আসামির রিমান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেন আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। এরপর আদালত চার আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ডে নেওয়ার আগে গত মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে র্যাব-১১ একটি দল তাসফিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
অপরদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুরে শিশু তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে রিমন ও বাদশাসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এ পর্যন্ত ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাবার কোলে থাকা জান্নাতুল ফেরদাউস তাসফিয়া নামে এক শিশু নিহত হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় শিশুটির বাবা সৌদিপ্রবাসী মাওলানা আবু জাহের।
ঘটনার কয়েক দিন আগে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব হাজীপুর গ্রামের রাশেদ মিয়ার বাড়ির মো. আলম পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মো. বাদশার কাছে জমির মাটি বিক্রি করেন। কয়েক দিন ধরে ওই জমি থেকে মাটি কেটে নেন বাদশা। যে পরিমাণ মাটি কাটার কথা ছিল তার চেয়ে বেশি মাটি কেটে নেন বাদশা। এ নিয়ে তাকে বাধা দিলে গত সোমবার ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আলমদের ওপর বাদশা ভাড়াটে সন্ত্রাসী রিমন, মহিন, আকবর, নাঈমসহ একদল সন্ত্রাসী মালেকার বাপের দোকান এলাকায় এসে হামলা চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
