প্রস্তাবিত গণমাধ্যমকর্মী আইন বাতিলের দাবি ফখরুলের

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৮:২৯ পিএম

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত গণমাধ্যমকর্মী আইন-২০২২ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ আয়োজিত সদ্য কারামুক্ত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজীর সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

এই সরকার আসার পরে সর্বপ্রথম সংবাদমাধ্যমের ওপরে আঘাত করা হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন গণমাধ্যমকর্মী আইন করা হচ্ছে যাতে কোনো মতেই এই সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে না পারে। যারাই জনগণের পক্ষে কথা বলবে তাদের যেন নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে জন্য এই আইন করা হচ্ছে।

সংসদে যারা আছে তারা সবাই সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণমাধ্যমকর্মী আইন পাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এটি যদি পাস হয়ে যায়, তাহলে পুরোপুরিভাবে ফ্যাসিবাদী শাসন পাকাপোক্ত হয়ে যাবে। তাই আজকে এই সমাবেশ থেকে এই আইন প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সাংবাদিক ভাইদের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, অনুরোধ জানাতে চাই আপনারা আপনাদের যেসব ছোটখাটো বিভেদ আছে সেগুলো ভুলে গিয়ে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য, গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য, ফ্রিডম অব প্রেসকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে কথা বলার জন্য একতাবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। আমি আপনাদের আহ্বান জানাবো আজকে দেশে যে গণতন্ত্র নেই, বাক্‌স্বাধীনতা নেই, আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই এসব বিষয়গুলোকে যদি আমাদের রক্ষা করতে হয়, রাষ্ট্রকে যদি রক্ষা করতে হয়, ১৯৭১ সালে যে লক্ষ্যগুলো নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সেটা যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। 

মির্জা ফখরুল বলেন, রুহুল আমীন গাজীকে একেবারে মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছিল। সাংবাদিকরা তাদের যেসব সমস্যা আছে সেগুলো যেন তুলে ধরতে না পারে সে জন্য তাকে আটক রাখা হয়েছিল। আজকে বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করে সাংবাদিকদের মত প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সেই আইনগুলোর বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা যাতে রুখে দাঁড়াতে না পারে এ কারণে রুহুল আমীন গাজীকে আটক রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই এই সরকারকে বাধ্য করি পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। নতুন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন একটা সংসদ আমরা গঠন করি, যারা জনগণের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিম মাসুম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই সিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডিইউজের সাবেক সেক্রেটারি মুনসি আব্দুল মান্নান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, রফিকুল ইসলাম আজাদ, মুরসালিন নোমানী, ডিআরইউর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব, বিএফইউজের সহসভাপতি ওবায়দুল রহমান শাহিন, ডিইউজের সহসভাপতি বাছির জামাল, রাশেদুল হক, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব জাকির হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত