হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৮ বছর আগে এক নিরক্ষর নারী স্বাক্ষর করেছেন দেখিয়ে ক্রয় করা জমি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে নানাভাবে দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এছাড়া ওই দলিলে স্বাক্ষর দেখানো এক সাক্ষী ওইসময় নাবালক ছিলেন এবং তিনি স্বাক্ষর করেননি বলে এফিডেভিটে দাবি করেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউপির চেয়ারম্যান মুখলিছ মিয়া অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুরাবই গ্রামের আবদুল হেকিম খান তার (মুখলিছ মিয়ার) দাদি আজিজা বানুর ৩৮ শতক ভূমি ১৯৭৪ সালের ৩ মে ক্রয় করেছেন মর্মে একটি দলিল (নম্বর ২২৭) করেন। দলিলে বিক্রেতা আজিজার স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ আজিজা ছিলেন একজন নিরক্ষর। এছাড়া দলিলে যে দুইজন সাক্ষী দেখানো হয়েছে এরমধ্যে একজন হচ্ছেন বাচ্চু মিয়া। তিনি প্রয়াত আজিজা বানুর আপন ভাইয়ের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই দলিল সম্পাদনের সময় তার বয়স ছিল ১৩ বছর। জাল দলিলে তাকে সাক্ষী করা হয়েছে জেনে গত ৬ এপ্রিল তিনি সাক্ষী ছিলেন না ও দস্তখতটি ভুয়া বলে এফিডেবিটের মাধ্যমে দাবি করেন। ৩৮ শতক ওই ভূমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
এদিকে ২০০৪ সালে হেকিম খানের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশান স্ত্রী রহিমা খাতুন, ছেলে বশির খান, মুনায়েম খান, মজিদ খান, মোজাহিদ খান, তানভীর খান ওই ভুয়া দলিলমূলে সিলভান এগ্রিকালচার লিমিটেডের কাছে ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিক্রি করে দেন। প্রাণ-আরএফএল এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সিলভান এগ্রিকালচার লিমিটেডটি ওই গ্রুপের ‘হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের’ অভ্যন্তরে অবস্থিত।
চেয়ারম্যান মুখলিছ আরও অভিযোগ করেন যে, ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত দলিলটি (নম্বর ২২৭/৭৪) জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এটি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নয়। বাহুবল উপজেলায় আব্দুল্লাহপুর মৌজার অন্য একটি ভূমি বিক্রির দলিল। যার মালিক তার দাদি নন। হেকিম খান পরিবারের নামে ওই ভূমি নামজারির পেছনে রাজিউড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আজাদুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তহশিলদার আজাদ ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, তৎকালীন হবিগঞ্জের এসি ল্যান্ড আবদুল কদ্দুছ কীভাবে এই ভূমি নামজারি করেছেন তা আমার জানা নেই।
জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দেওয়ার পর মোবাইলসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান মুখলিছ। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে বিষয়টি অবগত করেছি।
হেকিম খানের ছেলে মুজাহিদ খান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি সিলভানের কাছে বিক্রি করেছি। দলিল নিয়ে যদি কোনো অভিযোগ থাকে মুখলিছ মিয়া আদালতে মামলা করতে পারেন।
যোগাযোগ করা হলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তৈহিদুজ্জামান বলেন, ‘সিলভান যদি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ভূমি ক্রয় করে থাকে তিনি জেলা প্রশাসক, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করছেন কেন বুঝলাম না, তিনি তো কোর্টে মামলা করতে পারেন।’
