হাসপাতালের টয়লেটে সন্তান প্রসব, পাইপ ভেঙে উদ্ধার করল বাবা

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ০৪:২৩ পিএম

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের টয়লেটের কমোডের পাইপ ভেঙে এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে।

শ‌নিবার বিকেলে এক নারী কমোডে সন্তান প্রসব করেন। পরে তার স্বামী নেয়ামত উল্লাহ টয়লেটের পাইপ ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া নবজাতককে হাসপাতালের বিশেষ সেবা ইউনিটে (স্ক্যানু) ও তার মাকে প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার গণমান শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জেলে নেয়ামত উল্লাহর স্ত্রী শিল্পী বেগম সন্তানসম্ভবা ছিলেন। সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। পরে তাকে স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে শনিবার পাঠানো হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 

হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা শিল্পী বেগমের অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান) করার সিদ্ধান্ত নেন। 

শনিবার বিকেলে তার অস্ত্রোপচার সময় নির্ধারণ ছিল। এ জন্য নেয়ামত উল্লাহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আনতে হাসপাতালের সামনে যান।

এদিকে শিল্পী বেগম টয়লেটে গেলে সেখানে তিনি মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। শৌচাগারের কমোডের মধ্যে নবজাতকটি পড়ে আটকে যায়। পরে কমোডের পাইপ ভেঙে জীবিত অবস্থায় নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। 

নেয়ামত উল্লাহ বলেন, বিকেলে অস্ত্রোপচারের জন্য ওষুধ কিনে ফিরে দেখি টয়লেটের সামনে অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের ভিড়। আত্মীয়স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন।

এ সময় উপস্থিত লোকজন জানান, আমার স্ত্রী টয়লেটে সন্তান প্রসব করেছেন। কিন্তু কোথাও নবজাতককে না দেখে উপস্থিত লোকজনের কাছে জানতে চাই বাচ্চা কোথায়। তারা জানান, প্রসবের পর বাচ্চা টয়লেটের কমোডের মধ্যে পড়ে গেছে।

এ সময় আমাকে একজন কমোডের মধ্যে হাত দিতে বলেন। আমি পুরো হাত ঢুকিয়েও কিছু পাইনি, কিন্তু পাইপের মধ্যে থেকে কান্নার আওয়াজ পাচ্ছিলাম।

নেয়ামত বলেন, কান্না আওয়াজ শুনে আমি বিচলিত হয়ে যাই। কোনো কিছু ভাবার মতো অবস্থা ছিল না। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।

একপর্যায়ে হাসপাতালের লোকজন জানান, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে আর সহ্য করতে পারছিলাম না। এরপর কারও অপেক্ষা না করে দ্রুত কমোডের পাইপ ভেঙে ফেলি। এরপর বাচ্চাকে বের করে আনি।   

উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে নেয়ামত বলছিলেন, ‘আমার স্ত্রীর প্রসববেদনা এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি টেরই পাননি কখন সন্তান প্রসব হয়ে গেছে। সঙ্গে এক আত্মীয় ছিলেন। তিনি না দেখলে হয়তো আমার মেয়েকে আর বাঁচাতেই পারতাম না।’

নেয়ামত উল্লাহ ও শিল্পী বেগম দম্পতির চার বছর বয়সী আরও এক মেয়ে রয়েছে। নেয়ামত উল্লাহ পেশায় একজন জেলে।

হাসপাতালের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া নবজাতককে শিশুদের বিশেষ সেবা ইউনিটে (স্ক্যানু) ও তার মা প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। দুজনই সুস্থ আছেন। তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত