সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ

মুসলিম সংস্কৃতির বিরুদ্ধ শক্তিরাই ওয়াজের বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র নাটক করছে

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ০১:৫০ পিএম

আজকে যারা ওয়াজের বিরুদ্ধে বানোয়াট শ্বেতপত্র নাটক করছে, তারা আদতে মুসলিম বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধ শক্তি বলে জানিয়েছে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের ওলামারা বলছেন, এরা বাঙালি মুসলমানের স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাইরে থেকে আমদানিকৃত সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন এ কথা বলা হয়।

গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আপনারা জানেন, বিতর্কিত সংগঠন ঘাদানিক এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের উদ্যোগে গঠিত “বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে “গণ কমিশন” নামে একটি কথিত কমিশন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। “বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন” শীর্ষক কথিত শ্বেতপত্রটি গত ১২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোড়ক উন্মোচন করেছেন। এর দুইমাস পরে গত ১২ মে দুপুর বারোটায় এই শ্বেতপত্রটি দুদক চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শ্বেতপত্র প্রকাশের সাথে জড়িতদের ভাষ্যমতে এখানে ১১৬ জন আলেম ও ১০০০ মাদ্রাসা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১১৬ জন আলেমের নাম উল্লেখ করে তাদেরকে ধর্মব্যবসায়ী বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং তাদের ভাষ্যমতে ধর্মব্যবসায়ীদের অপরাধের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, এই শ্বেতপত্র জনসাধারণে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই বিষয়ে আমাদের নির্ভর করতে হয়েছে তাদের মিডিয়ায় ব্রিফিং থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপরে। যদি তাদের উদ্দেশ্য সৎ হত এবং তাদের সৎসাহস থাকত তাহলে উপস্থাপিত শ্বেতপত্র জনসম্মুখে উন্মুক্ত করে দিতে পারতো। অন্তত যাদের ব্যাপারে তারা অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তাদেরকে প্রতিবেদন পাঠাতে পারতো। কথিত শ্বেতপত্র নিয়ে তাদের একধরনের রাখঢাক-লুকোচুরি ও মিডিয়াবাজী প্রমাণ করে যে, তারা সারবত্তাহীন অভিযোগ পত্র নিয়ে নাগরিকদের মাঝে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াজ প্রসঙ্গে বলা হয়, ওয়াজ হলো জনসাধারণের চরিত্র ও ধারণ ক্ষমতা অনুসারে ইসলামের নির্দেশনা এবং পরকালের শাস্তি ও প্রাপ্তি নিয়ে এক ধরনের আলোচনা। ওয়াজ কোন একাডেমিক আলোচনা নয়। ওয়াজ বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি। এদেশে ইসলাম এসেছে সুফি, দরবেশ ও পীর-মাশায়েখদের মাধ্যমে। তারা প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। সেই তখন থেকেই বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে, পাড়া-মহল্লায় প্রতি বছর অন্তত একবার সম্মিলিতভাবে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়। বাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি এটা। এটা বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য গ্রামে-গঞ্জে ঐক্য সৃষ্টি করেছে, সমাজবদ্ধতা তৈরি করেছে। এলাকার তরুণদের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করছে। একই সাথে ওয়াজের মাধ্যমে সমাজে পরকীয়া, ধর্ষণ, নারীবিদ্বেষ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি ইত্যাদি অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছে।

এতে বলা হয়, ওয়াজ করা ও মানুষকে সৎপথের দিকে আহবান করা উলামাদের শরয়ী দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে উলামাদের একনিষ্ঠতা, নিরবচ্ছিন্নতা, স্বার্থহীনতা, কল্যাণকামিতা এবং মানুষের চরিত্র, ভাষা ও মনস্তত্ব বুঝে আকর্ষণীয়পন্থায় ওয়াজ উপস্থাপনের দক্ষতার কারণে কোটি-কোটি মানুষ উলামাদের বক্তব্য শোনেন। তাদের প্রতি ভক্তি-ভালোবাসা রাখেন। তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। শীতের মৌসুম জুড়ে প্রতিরাতে দেশের প্রান্তে প্রান্তে হাজার হাজার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একটি মৌসুমে দেশের প্রায় ৬৮০০০ গ্রামের প্রায় প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে বা কোন কোন গ্রামে একাধিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই যে কোটি কোটি মানুষের উদ্যোগ-আয়োজন, উৎসাহ, আগ্রহ ও ভালোবাসা তাকে ধর্মব্যবসা বলে অবহিত করা দেশের কোটি কোটি নাগরিকের সাথে ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছু নয়। কতিপয় শহুরে বিদ্বেষজীবিরা বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক প্রবণতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার এই দুঃসাহসে আমরা অবাক হই।ভ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত