ইন্দো-প্যাসিফিকে উত্তেজনা

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ১১:০০ পিএম

ইউক্রেন সংকট পরিস্থিতির মধ্যেই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই অঞ্চলে চীনকে ঠেকাতে আঞ্চলিক জোট কোয়াডের মাধ্যমে চাপ বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া কোয়াড সম্মেলন থেকেই এই প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। এবারের সম্মেলন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমুদ্র রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবারই কোয়াডের সদস্যরা সমুদ্রে নজরদারিসংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-চীন সাগরে পেইচিংকে ঠেকাতে এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

কোয়াড সদস্য জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও জাপান বলছে, ইন্দো-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ফর মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস (আইপিএমডিএ) প্রকল্পের মাধ্যমে প্যাসিফিক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত সাগরসংলগ্ন দেশগুলো তাদের জলসীমায় অবৈধ মাছধরা এবং অন্যান্য তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। কোয়াড চীনের নাম না বললেও, এটা স্পষ্ট যে চীনকে ঠেকাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ আছে, তাদের জলসীমায় অবৈধভাবে চীনা জলযান প্রবেশের। এ ছাড়া চীনের মেরিটাইম মিলিশিয়াদের নিয়েও অভিযোগ রয়েছে দেশগুলোর।

সমুদ্র নজরদারির পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো কোয়াড প্রকাশ করেনি। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, বেসরকারি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোকে সমুদ্র ট্র্যাক করার জন্য অর্থায়ন করবে কোয়াড। এই স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইন্দো-প্যাসিফিকের রাষ্ট্রগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এবং রাডারের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে দেশগুলো তাদের জলসীমায় থাকা জলযান ট্র্যাক করতে পারবে। অনেক সময়ই জলযানগুলোকে ট্র্যাক করা যায় না অটোমেটিক ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ করে রাখার কারণে। এই নজরদারি করার সেন্টার হবে ভারত, সিঙ্গাপুর, ভানুয়াতু ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জে।

গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রে নজরদারির মাধ্যমে ভারত সাগর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর অনেক উপকার হতে পারে। এতে পর্যবেক্ষণের খরচ যেমন কমবে, তেমনি অবৈধ মাছ ধরাও বন্ধ হবে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে ২৩৭ বার অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগ আছে। কিছু চীনা নৌকাকে ভানুয়াতু, পালাও, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আট করা হয়েছিল। মাছ ধরা ছাড়াও চীনের বিরুদ্ধে সাগরের সম্পদ চুরিরও অভিযোগ আছে। অবশ্য পেইচিং সব সময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরে পেইচিংয়ের বিশাল মিলিশিয়া বাহিনী রয়েছে। বিতর্কিত অঞ্চল দখলে ওই মিলিশিয়াদের ভূমিকা রয়েছে বলেও ধারণা করা হয়। ভিয়েতনামের পার্সেল আইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মিসচিফ রিফ এবং সাহোল দখল করে নেওয়ার অভিযোগও আছে চীনের বিরুদ্ধে। চীন যদিও এগুলো তাদের নিজেদের সীমানা বলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করছে। গত মে মাসে ম্যানিলা তাদের থিতু দ্বীপে চীনের নৌবাহিনীর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তখন ওই দ্বীপে চীনের ২৮৭টি নৌকা দেখা গিয়েছিল। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক র‌্যামন পার্দো আলজাজিরাকে বলেন, ‘চীনের মেরিটাইম আচরণ শুধু কোয়াডের জন্যই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগজনক। আমি আশা করি আরও অনেক দেশ আইপিএমডিএ প্রকল্পে যুক্ত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত