সীতাকুণ্ডে আগুন: ফেনীর ৩ বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ০৪:৩১ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ফেনীর ফায়ার ফাইটার সালাউদ্দিন কাদের সবুজ (৩৭), কনটেইনার ডিপোর শিফট ইনচার্জ শাহাদাত উল্লাহ মজুমদার (৩৮) ও নিখোঁজ কভার্ডভ্যান চালক মোহাম্মদ ইয়াসিনের (২৮)  বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত সবুজ ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের মাস্টার মো. ইউছুপের ছোট ছেলে। তার এক মেয়ে ও ছেলে সন্তান রয়েছে। শাহাদাত ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের আমিন উল্লাহ মজুমদারের ছেলে। তিনি বিএম ডিপোতে শিফট ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সবশেষ গত ৩ জুন তিনি ছুটি শেষে কাজে যোগ দেন। নিখোঁজ ইয়াসিন ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোসাইপুর গ্রামের মো. খোকা মিয়ার ছেলে। ইয়াসিন ছিলেন তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে মেজ।

নিহত সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের কর্মক্ষম ছেলের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। স্বজনরা জানান, সবশেষ ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন সবুজ। শনিবার রাত ৯টায় স্ত্রী মর্জিনা আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার বিগ্রেডের ইউনিটের সঙ্গে ডিপোতে উদ্ধারের কাজে যোগ দেন। বিস্ফোরণের পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রবিবার দুপুরে স্বজনেরা জানতে পারেন চট্টগ্রাম মেডিকেলে তার মরদেহ হয়েছে। সোমবার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

ফায়ার ফাইটার সবুজ ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে সোনগাজী ফায়ার স্টেশনে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।

অপরদিকে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শাহাদাত মজুমদারের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। পরিবারের কর্মক্ষম বড় ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তারা। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ডিপোতে যান শাহাদাত এবং পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা অবস্থায় বিস্ফোরণের পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রবিবার দুপুরে স্বজনরা জানতে পারেন চট্টগ্রাম মেডিকেলে তার মরদেহ রয়েছে। ওইদিন রাতে গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শাহাদাত তিন বছর আগে একই এলাকায় বিয়ে করেন। তার আড়াই মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

শনিবার রাত থেকে খোঁজ নেই স্পেক্ট্রা কোম্পানির কভার্ডভ্যান চালক মোহাম্মদ ইয়াসিনের।  রবিবার রাতে ইয়াসিনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা কোকিলা আক্তার ছেলের নাম করে ডুকরে কাঁদছেন আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চার বোনও।

চাচাতো ভাই মোহাম্মদ নাহিদ জানান, ডিপোতে আগুন লাগার পর ইয়াসিন বাড়িয়ে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কথা শেষ করে ফেসবুক লাইভে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও দেখান সবাইকে। এক পর্যায়ে বিস্ফোরণ ঘটলে তার লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত