চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী লাল দিঘির অবস্থান পৌরসভা কার্যালয়ের ঠিক উত্তর পাশে। আর দিঘির উত্তর পাড়ে আরেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘সীতাকুণ্ড উন্নয়ন আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’। বর্তমানে লাল দিঘির দূষিত পানি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না বিদ্যালয়ের শিশুরা।
সারাক্ষণ ছড়াতে থাকা দুর্গন্ধের কারণে ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না তারা। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে একই ভোগান্তির কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
গত কয়েক দিন বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছে না। এক হাতে নাক চেপে ধরে অন্য হাতে লিখছে কেউ কেউ। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বমি করতেও দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসা অন্তত ৫০ অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, হাঁপানির মতো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের সন্তানরা। দুর্গন্ধের ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না শিশু শিক্ষার্থীরা। জোর করে আনতে হয় তাদের। বিদ্যালয়ে আসার পর প্রতিদিন কয়েকবার বমি করছে তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ইজারাদারকে বারবার বলার পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ থেকে বর্তমানে ৬৫ ভাগে নেমে এসেছে। আমি মেয়র ও ইউএনওকেও বলেছি। ওনারাও ইজারাদারকে পুকুর ব্যবহার উপযোগী করতে বলেছেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না।
পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম বলেন, ইজারাদারকে একাধিকবার বলা হয়েছে। শেষবারের মতো আর একদিন সময় দিয়েছি। এর মধ্যে যদি পুকুর পরিষ্কারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নেয় তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। জানার পরেই আমি মেয়রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। পুকুরটা যেহেতু জেলা পরিষদের সেহেতু প্রয়োজনে ইজারা বাতিলের সুপারিশ করে জেলা পরিষদ বরাবর চিঠি পাঠানো হবে।
তবে জানা গেছে, পুকুরের মূল ইজারাদার মারা যাওয়ায় তার ভাই মো. দিদার এখন পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এ বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
