আকস্মিক ঢলে রৌমারীতে বন্যা

৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি ২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ১১:৫০ পিএম

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ৪৯টি গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। ঢলের পানি ঢুকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে উপজেলার ২৫টি সরকারি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

চলাচলের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলায় করে যাতায়াত করছেন প্লাবিত এলাকার মানুষজন। বন্যায় বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষরা। কিছু গ্রামে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। তলিয়ে গেছে বীজতলা, ধানক্ষেত এবং সবজি বাগান।

গতকাল রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে চরগয়টাপাড়া, তেকানী গ্রাম, চরকাউয়ারচর, চরবোয়ালমারী, শৌলমারী ইউনিয়নের ওকড়াকান্দা, শৌলমারী, মোল্লারচর, রৌমারী ইউনিয়নের কড়াইকান্দি, মির্জাপাড়া, গোয়ালগ্রাম, নতুন চুলিয়ারচর, যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্দা, বিক্রিবিল, আলগারচর ও কাশিয়াবাড়ি।

বন্যার শুরুতে পানিবন্দি হয় দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ধর্মপুর, ছাটকড়াইবাড়ি, খেতারচর, গাছবাড়ি, ইটালুকান্দা, কাউনিয়ারচর, কাজাইকাটা, শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া, বোয়ালমারী, বেগুলারচর, চৎলাকান্দা, টালুয়ারচর, ঝুনকিরচর, রৌমারী ইউনিয়নের ম-লপাড়া, নটানপাড়া (আমবাড়ী), চান্দারচর, ইজলামারি, চরইজলামারী, মাদারটিলা, চর ইছাকুড়ি, বড়াইবাড়ী, চুলিয়ারচর, ঝাউবাড়ি, পাটাধোয়াপাড়া, বাওয়ার গ্রাম, ধুবলাবাড়ি, বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইসপাড়া, ফলুয়ারচর, বাঘমারা, বলদমারা, যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর, খেওয়ারচর, নামাবকবান্দা, দক্ষিণ আলগারচর, চরলাঠিয়াল ডাঙ্গা, পাখিউড়া ধনারচর নতুনগ্রাম এবং চর শৌলমারী ইউনিয়নের চর ঘুঘুমারী, খাউরিয়া ও সুখের বাতির চর।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ২৫টি সরকারি বিদ্যালয় পানিবন্দি হওয়ায় সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম বলেন, তলিয়ে যাওয়ায় বকবান্ধা উচ্চ বিদ্যালয় ও নামা বকবান্ধা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়ের হোসেন বলেন, শৌলমারী, রৌমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নের ২২ কিলোমিটার রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পাকা রাস্তায় রেইনকাট বা বৃষ্টি ধসের সৃষ্টি হয়েছে। 

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ভারী বর্ষণে উপজেলায় ২৮৩ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, সবজি ও তিল তলিয়ে গেছে।

রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী ক্রয় করে প্যাকেট করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে আরও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে, ‘পত্রিকায় যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে অবস্থা সেরকম নয়’ দাবি করে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, উজানের পানিতে উপজেলার কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষদের সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত