শিক্ষক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কয়েকজন প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ‘শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি’ নামে অনিবন্ধিত এই সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন লুৎফর রহমান ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মাস্টার। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন আরো সাতজন সহকারী শিক্ষক। তারা কখনো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বা স্থানীয় রাজনৈতিক উর্ধ্বতন ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে নানা অনুষ্ঠানের নামে সাধারণ শিক্ষকদের কাছে এই চাঁদাবাজি করছেন। চাঁদা না দিতে চাইলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানিও করা হচ্ছে।
সম্প্রতি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ১৪ জন শিক্ষক গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এই অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, লুৎফর রহমান ফরহাদের মূল কর্মস্থল কাপাসিয়া উপজেলার ঝাওয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলেও তিনি সংযুক্তি হিসেবে আছেন শ্রীপুরের মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে যোগদান করেই তিনি গড়ে তুলেন 'সেভেন স্টার’ শিক্ষক গ্রুপ। তিনি বিভিন্নভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে শ্রীপুরের শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেন। তিনি আগের উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুল হাসানকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে শ্রীপুর ছাড়তে বাধ্য করেন। বর্তমানে নতুন উপজেলা শিক্ষা অফিসার যোগদানের পরই তাকে ম্যানেজ করতে না পেরে ফের ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।
ফরহাদ মাস্টার সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে শ্রীপুরের ১৬৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতির জনকের ৭ই মার্চের ভাষণের ছবি ও একটি করে গাছের চারা বিতরণের কর্মসূচী গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারেও তিনি চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার অনেক বিদ্যালয় এর সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য দালালি করেন। এজন্য সে সভাপতি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। এমনকি তার দ্বিতীয় স্ত্রী কোহিনুর আক্তারকে শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বানিয়েছেন। যেই স্কুলে আগে তিনি শিক্ষকতা করতেন।
জানতে চাইলে লুৎফর রহমান ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সরকারি কর্মচারী। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা আমার কর্তৃপক্ষ দেখবে। সেটা দেখার দায়িত্ব সাংবাদিকদের নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষকের স্ত্রী সভাপতি হতে পারবে না, এমন কোনো বিধান তো নেই।’
