বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো দরকার

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০২:১৭ এএম

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বিদ্যমান বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল থেকেই আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে জনচাহিদার বিবেচনায় এ বরাদ্দের ক্ষেত্রে আরেকটু উদার হওয়া যেত। গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাপ্রার্থীরা মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৮ শতাংশ নিজেরাই বহন করছেন। এবারের বাজেটে বাড়তি ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে এই অনুপাত ৫১ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ, ব্র্যাক জেমস পি. গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ আয়োজনে ‘বাজেট ২০২২-২৩-এ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনলাইন জাতীয় সংলাপে সাবেক গভর্নর এ কথা বলেন। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি ও লুৎফুন নেসা খান এমপি। 

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৫১তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। স্বাস্থ্য খাতের জন্য আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ২ শতাংশ। সে হিসেবে চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৪ হাজার ১১৫ কোটি টাকা।

সংলাপে হাসানুল হক ইনু বলেন, সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা করে ও সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যেক বছরের স্বাস্থ্য বাজেট প্রণয়ন করা দরকার।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, সকলের জন্য সুলভে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বীমার বিকল্প নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সার্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সংলাপে ‘আউট-অফ-পকেট হেলথ এক্সপেন্ডিচার’ কমানোর লক্ষ্যে সার্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপ্তি বাড়ানো, সরকারি সেবাকেন্দ্রে বিনামূল্যে ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো ও সব ধরনের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। । 

সংলাপের প্রশ্নোত্তর ও অভিমত পর্বে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা ও অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন। তারা জাতীয় বাজেটে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দের অপ্রতুলতা, নগরাঞ্চলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্যতা, স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও হিসাব ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণের অভাবের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা এবং অব্যবস্থাপনার কথাও বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য সেক্টরে গুরুতর অব্যবস্থাপনা রয়েছে এবং এটি শুধু অপর্যাপ্ত জনবলের কারণে। সঠিক মানুষ সঠিক জায়গায় নেই। আমরা উপজেলা পর্যায়ে সুসজ্জিত হাসপাতাল তৈরি করছি, কিন্তু চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, নার্স ইত্যাদির অভাবে হাসপাতালগুলো খালি পড়ে আছে। দেশে নগর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার অবনতি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, ইপিআই, ওআরএস ইত্যাদি প্রোগ্রাম এনজিও দ্বারা পরিচালিত হয় এবং খুব সফল হয়। এ ধরনের আরও সাফল্যের গল্প তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত