পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্রে রুশ নৌবাহিনীর টাগবোট ধ্বংস করলো ইউক্রেন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০৭:৩১ পিএম

পশ্চিমাদের সরবরাহ করা দুটি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনীর একটি টাগবোট ধ্বংস করার দাবি করেছে ইউক্রেন। এই প্রথম ইউক্রেন পশ্চিমা মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধযানে আঘাতের ঘোষণা দিল।

এই টাগবোটের সাহায্যে ওডেসা অঞ্চলের দক্ষিণে রুশ নিয়ন্ত্রিত জেমিনি দ্বীপে সেনা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিবহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

ওডেসার আঞ্চলিক গভর্নর ম্যাকসিম মার্চেনকো বলেছেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত টাগবোটটির নাম ‘ভ্যাসিলি বেখ’। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এ হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, দুটি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি রুশ টাগবোটে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত যোগাযোগ অধিদপ্তর বলেছে, কৃষ্ণ সাগরে পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধে দুবার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করছে রাশিয়া। সেভেরোদোনেৎস্কের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে রুশ বাহিনী। আজত রাসায়নিক কারখানায় অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় সেনাদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

লুহানস্কের গভর্নরের দাবি, সেভেরোদোনেৎস্কে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। অব্যাহত গোলাবর্ষণে তারা বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাদের অনেকেই আজত রাসায়নিক কারখানার নিচে বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য ও পানি সরবরাহ কমে এসেছে এবং স্যানিটেশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই সেখানে। এতে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ অবস্থায় বলেছেন, প্রতিদিন তিনি অস্ত্রের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব দেখছে আমরা কীভাবে দেশ রক্ষা করছি। আমাদের সেনাদের কাছ থেকে শেখা উচিত, কীভাবে লড়াই করতে হয়। তবে আমাকে প্রতিদিন ভাবতে হচ্ছে অস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে।’

এ অবস্থায় ইউক্রেনকে ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্রসহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে পশ্চিমাদের একসঙ্গে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে চীন ও রাশিয়া। বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। তিনি বলেন, মস্কোর ‘সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা’ রক্ষায় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত