বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার ৭ গ্রামের মানুষের

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ১১:৫৭ এএম

একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো তাও জরাজীর্ণ ভঙ্গুর অবস্থা, যা দিয়ে পারাপার হয় সাত গ্রামের হাজারো মানুষ। বলতে গেলে এটিই একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। এই সাঁকোটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর শাখা ক্যানাল ঘাটের মাঝে অবস্থিত।

শুষ্ক মৌসুমে শাখা নদীর পানি নেমে গেলে সেখান দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে এই বাঁশের সাঁকোটি মানুষ বেশি যাতায়াত করে থাকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের প্রয়াত ইউপি সদস্য পান্নু মোল্লা নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেন।

এই সাঁকো দিয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং বেপারি পাড়া, লালু মণ্ডল পাড়া, ইদ্রিস পাড়া, নাসীর সরদার পাড়া, সাহাজদ্দিন বেপারি পাড়া, নতুন পাড়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সী বাজার এলাকাসহ ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন।

এ ছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষিপণ্য পারাপার, কিষাণ-কিষাণীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দেড়শ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটিতে মানুষজন চলাচল করে তখন এটি কাঁপতে থাকে। আবার অনেক জায়গায় বাঁশ-খুঁটি পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

অন্যদিকে সাঁকোর অনেক জায়গার ভাঙা বলে কৃষি পণ্য নিয়ে কৃষক যাতায়াত করতে পারছে না। অনেক দূর ঘুরে তাদের পণ্য স্থানীয় বাজারে নিতে হচ্ছে।

এছাড়াও স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের অনেকেরই পা আটকে আহত হয়েছেন। এই সাঁকোটি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

সাঁকো পার হওয়া ইদ্রিস পাড়া গ্রামের মো. শাহীন শেখ (৪৯) বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে এই ভাঙা সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি খালের ওপর সেতু নির্মাণের।

শীতকাল বাদে বাকি অন্যান্য মৌসুমে এই সাঁকোই আমাদের ভরসা।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান, মেম্বার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচন এলেই  জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে তাদের আর দেখা যায় না।

নতুন পাড়া গ্রামের কৃষক লালমিয়া মোল্লা (৪৮), কোবাদ শেখ (৫৫), আলতাফ হোসেন (৫০) সহ কয়েকজন বলেন, তাদের জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ ভারী কোনো মালামাল সাঁকো দিয়ে বহন করা যায় না। আমাদের ফসল নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাদের ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে তাদের উৎপাদিত পণ্য গোয়ালন্দ বাজারে নিতে হয়।

সাঁকোটি দিয়ে নিয়মিত পারাপার হওয়া দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের কয়েকজন  শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিনের এ বাঁশের সাঁকোটি নড়বড়ে হওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময়ই বাঁশের মধ্যে পা আটকে যায়। গত বছরও বন্যার সময় সাঁকো থেকে পড়ে একটি শিশু মারা গিয়েছিল।

এই বিষয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ক্যানাল ঘাট এলাকায় খালের মধ্যে সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে একটি ব্রিজ করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী মো. বজলুর রহমান জানান, আমরা প্রায় ক্যানাল ঘাটের ওই স্থান থেকে ৬ মাস আগে সয়েল টেস্ট করে সেখানে ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বরাবর পাঠিয়েছি।

এতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে নদী ভাঙন নিয়ে একটা শঙ্কা ছিল। কিন্তু মূল পদ্মা পাড় সংরক্ষণ প্রকল্প পাশ হয়ে যাওয়ায় ভাঙনের শঙ্কা নেই। আশা করছি ব্রিজের প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত