সিপিডির সংলাপে পরিকল্পনামন্ত্রী

আমলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই আইন দেখান

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ০৬:২৬ এএম

বিভিন্ন প্রকল্পের অসঙ্গতির কারণে আমলাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলেই তারা ৯০ দিনের আইন দেখান, আসলে আইনেও তো আছে। কিন্তু ব্রিটিশদের যে কাজে ৯০ দিন লাগত, এখন তো সেটা ৯০ সেকেন্ডও লাগে না। এই আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন। গতকাল বুধবার এক সংলাপে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেছেন।

‘বাংলাদেশে পাবলিক অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজক সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমলাদের হাতে অনেক রুলস (আইন) আছে, যেগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই। ব্রিটিশরা তাদের সময়ে প্রয়োজনে এসব আইন করেছিল। কিন্তু এগুলোর প্রয়োজন এখন নেই। এগুলো ব্যবহার করা অন্যায় বলে মনে করি।’ তিনি বলেন, ‘মিলিটারি (সামরিক) শাসকরা তাদের প্রয়োজনে কিছু আইন বানিয়েছে, যেগুলোরও প্রয়োজন এখন নেই।’

এম এ মান্নান আরও বলেন, ‘আমাদের মতো অনুন্নত দেশে প্রধান ইস্যুই অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন আমাদের এক নম্বর প্রয়োজন। অবকাঠামো উন্নয়ন হাজার বছর ধরে মানুষ করে আসছে। ফেরাউনের সময় থেকেই রেকর্ড আছে, তারা সেতু বানিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) মূলত আমি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করি। আমি যা বলি, মূলত তার কথাগুলোই বলি। প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, আমি যেটা বলতে পারি তিনি সেটা পারেন না। আপনারা সেটা বোঝেন। তার মুখের কথাগুলোই মূলত আমি আমার মুখে বলি।’

প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি। প্রকল্প পঞ্চগড়ে, উনি বাস করেন ঢাকায়। তার তো সার্বক্ষণিক ঢাকায় থাকতে হবে না। এটা আমাদের একটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রকল্প পরিচালকই নন, অনেক আমলাকেও তার কর্মস্থলে পাওয়া যায় না। উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত অনেক দায়িত্ববান ব্যক্তিকে আমরা পাই না। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্বাহী আদেশও দিয়েছেন। কিন্তু কেন পালন করা হচ্ছে না, খুঁজে বের করা দরকার।’

মন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে তিনি বলেছিলেন আমলাতন্ত্রের কোনো কোনো অংশ নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা তাদের প্রয়োজনে এটা করেছিল, কিন্তু এই নিয়ম এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এটা ভাঙতে হবে, দূর করতে হবে।

ঋণদাতা সংস্থার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে ঋণদানকারীদের দাতা বলেন, আমি এতে একমত নই। যারা ঋণ দেয় তারা দাতা নয়, তারা উন্নয়ন সহযোগী। ঋণকে সহায়তা বলা যাবে না।’

ক্যাডার একীভূত করার বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘ইকোনমিক ক্যাডার বিলুপ্ত করার বিষয়ে আমি সম্মতি দেইনি। ইকোনমিক ক্যাডার প্রশাসনে আসতে চায়, এটা ভালো হয়নি।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় সংলাপে অংশ নেন পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এস্টিমেটের চেয়ারম্যান মো. আবদুস শহীদ, সংসদ সদস্য এনামুল হক, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান প্রমুখ।

সিপিডি ও দ্য এশিয়ান ফাউন্ডেশন সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে প্রকল্পের নানা বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত