তীব্র গরমে হাসপাতালে শিশু রোগী বেড়ে দ্বিগুণ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ১২:২৮ এএম

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। সেই সঙ্গে গরমের প্রভাবে বেড়েই চলেছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া ও শিশুসহ অন্যান্য ওয়ার্ডে ১২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে শয্যা-সংকট থাকায় ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বড় দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীসহ স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ২৯৬ রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১২৪ রোগী। এর মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছে ২৪ জন। শিশু ওয়ার্ডে ২৮ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি ৬৯ জন। অর্থাৎ বেড সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি আছে। এ গরমে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রিয়াংকা রানী বলেন, ‘গরম পড়ার কারণে হসপিটালের শিশু ওয়ার্ডে তুলনামূলক রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ। নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।’

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা বলেন, ‘আমার বাচ্চার ডায়রিয়া। গত চার দিন থেকে হাসপাতালে আছি। গরমে থাকা যাচ্ছে না, খুব গরম পড়ছে। আবার বারবার বিদ্যুৎ যায়, বাচ্চাকে নিয়ে খুব সমস্যায় আছি।’

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ বলেন, ‘এ সময় বাচ্চাদের বাবা-মাকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি। বিশেষ করে তারা যেন বাইরের কোনো খাবার বাচ্চাদের না খাওয়ান। গরমে বাচ্চাদের গা ঘেমে গেলে মুছে দিতে হবে।’

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়া ও তীব্র গরমে বেশ কিছু অসুখের প্রাদুর্ভাব আমরা লক্ষ করছি। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলো ছাড়াও ৮৫টি মোবাইল মেডিকেল টিম কাজ করছে। বিভিন্ন রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করছে। আসা করছি পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত