বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ০২:০৯ পিএম

বিক্ষোভকারীদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। শনিবার বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবন ঘেরাও করার পরপরই গোতাবায়া পালিয়ে যান।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ভিত্তিক ডেইলি মিরর জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও ঢুকে পড়েছে।

এক প্রতিবেদনে ডেইলি মিরর জানায়, ‘হাজার হাজার বিক্ষোভকারী একের পর এক ব্যারিকেড সরিয়ে ফোর্ট-এ অবস্থিত রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারে পৌঁছে গেছে এবং পুলিশকে এলাকা থেকে সরে যেতে দেখা গেছে। বাতাসে গুলি চালানোর শব্দ শোনা গেছে এবং একটানা টিয়ার গ্যাস ছোড়া হচ্ছে’।

স্থানীয় টিভি নিউজ নিউজ ফার্স্ট চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু হেলমেট পরা বিক্ষোভকারী শ্রীলঙ্কার পতাকা হাতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়েছে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। করোনা মহামারি, জাতীয় অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি, খাবার এবং ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর আমদানি মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। ডিজেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো। ফলে গত কয়েক মাস ধরে সেখানে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না।

আর এই বিপর্যয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট গোতাবায় রাজাপাক্ষেকে দায়ী করে গত মার্চ থেকেই তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন বিক্ষোভকারীর।

শনিবার (৯ জুলাই) রাজধানী কলম্বোতে বিক্ষোভ-সমাবেশে জন্য জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা শ্রীলঙ্কার জনগণ আবারও ফুঁসে উঠেছে।

এর আগে জনগণের ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

নতুন করে বিক্ষোভ দমাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে শুক্রবার কলম্বো ও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলার ঘোষণা দেয় পুলিশ। এ সময় সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এ কারফিউ-এ শেষ রক্ষা হলো না। 

কারফিউ জারির পর প্রেসিডেন্ট ভবনসহ কলম্বোর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। টহল দেয় সশস্ত্র পুলিশ ও সেনারা। শুক্রবার বিকেলে প্রায় ২০ হাজার সেনা-পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে কলম্বো এবং আরও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ জারি থাকা এলাকাগুলোতে মানুষজনকে ঘরে থাকতে হবে। কারফিউ ভঙ্গ করাকে সরকারি নির্দেশ অমান্য বলে গণ্য করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত