সারকারখানার বর্জ্যে মরছে ১০ ঘেরের মাছ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ১২:৫১ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) নির্গত অপরিশোধিত বর্জ্য খালের পানিতে মিশে বিষক্রিয়ায় ১০ মৎস্য ঘেরের মাছ মরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত দুদিনে এসব ঘেরের অন্তত ৩০ লাখ টাকার মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে বলে দাবি খামারিদের। তবে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ বলছে, কারখানার বর্জ্যে খালের পানি দূষিত হয়নি, অন্য কোনো কারণে মাছ মারা যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবাদিয়া এলাকায় ২-৩ একর আয়তনের কয়েকটি মৎস্য ঘেরে দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। দুদিন ধরে এসব ঘেরে বিষক্রিয়ায় মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠছে। ঘেরমালিকদের অভিযোগ, সিইউএফএল সার কারখানার নির্গত বর্জ্য খালের পানিতে মিশে জোয়ারের স্রোতে ঘেরে ঢুকে পড়েছে। এ কারণে ঘেরের পানি দূষিত হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে। মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, চিতল, বোয়াল,পাঙাশ, সরপুঁটি, কই, শিং, মাগুর, শোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সার কারখানার বর্জ্যে দূষিত খালের পানি পান করে ১৩ মহিষের মৃত্যু হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সার কারখানার বিষাক্ত পানি স্থানীয়দের অবগত না করে খালে ছাড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারখানার বিষাক্ত গ্যাসের পানি ছাড়লে আগে এলাকায় মাইকিং করা হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের মাইকিং ছাড়াই কারখানার বিষাক্ত পানি ছেড়ে দিচ্ছে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয়দের গবাদিপশু মারা পড়েছে বারবার। এবার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য ঘেরসহ এলাকার পরিবেশের। ঘটনার পর সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ খালের পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে।

গোবাদিয়া এলাকার মৎস্য ঘেরের মালিক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘আমার তিন একর মাছের প্রজেক্টের সব মাছ মরে গেছে। দুদিন ধরে মরা মাছের দুর্গন্ধে ঘের এলাকায় থাকা যাচ্ছে না। আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে। সারকারখানার তরল বর্জ্য খালের পানিতে মিশে জেয়ারের স্রোতে ঘেরে ঢোকায় পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে।’

স্থানীয় বারশত ইউপির চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ বিষাক্ত বর্জ্য ও অ্যামোনিয়া গ্যাস ছাড়ার কারণে কিছুদিন পরপর গরু-মহিষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার ১০টি মৎস্য ঘেরের মাছ মারা গেছে। একের পর এক এসব ঘটনা ঘটলেও সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দূষিত বর্জ্যরে কারণে ঘেরের মাছ মরে যাওয়ার খবর শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কারখানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খালের পানি সংগ্রহ করেছে। ওই পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো কারণে হয়তো ঘেরের মাছ মরা যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত