নিরাপদে ইউক্রেনীয় শস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়া কর্র্তৃক ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্য রপ্তানির অবরোধ অবসানে তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় একটি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছে তুরস্ক। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
খাদ্যশস্য পরিবহনে জাতিসংঘ ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক সফল হওয়ায় ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে এবং বিশ্বে খাদ্য সংকট কমবে। খাদ্যশস্য রপ্তানিতে অবরোধের ফলে বিশ্বের লাখো মানুষ খাদ্য ঘাটতিতে পড়ার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কেটে যাবে। তবে এখন চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেন শস্য পরিবহনের জন্য সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য পরের আলোচনায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এই অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চুক্তির জন্য অনেক কিছু চূড়ান্ত করতে হবে। এজন্য সব পক্ষের সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন। সড়ক, রেল পথ ও নতুন একটি নৌরুটে কিছু পরিমাণ শস্য রফতানি করতে পারছে ইউক্রেন। তবে গত মাসে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ২.৫ মিলিয়ন টন। যুদ্ধের আগে গড়ে ৮ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য রপ্তানি হতো। ইউক্রেনীয় বন্দর ওডেসাকে রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে কয়েক মিলিয়ন টন।
বিশ্বের বৃহত্তম শস্য সরবরাহকারী ইউক্রেনে চলমান সংঘাত বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কৃষ্ণসাগরের বিশেষ করিডর ব্যবহার করে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে জাতিসংঘ, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক বন্দর অবরুদ্ধ। ফলে এসব বন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না দেশটি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে দেশটির বেশ কিছু অঞ্চল দখলে নিয়েছে রুশ সেনারা। কিয়েভ এরপর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে ওইসব অঞ্চলের খাদ্যশস্য চুরির অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে।
