আগে এমনটা প্রায়ই হতো। যেকোনো দল বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিতের পর শেষ ম্যাচে বেঞ্চের ক্রিকেটারদের সুযোগ দিত। উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটছে। পরশু দ্বিতীয় ওয়ানডের পরেই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বেঞ্চের ক্রিকেটারদের সুযোগ দিতে প্রয়োজনে নিজেও বিশ্রাম নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন অধিনায়ক।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন প্রচলন খুব একটা নেই। সেরা একাদশের বাইরের ক্রিকেটাররা খুব একটা সুযোগ পান না। তার ওপর ওয়ানডে সুপার লিগ চালু হওয়ায় ম্যাচের গুরুত্ব এখন অনেক। সিরিজের কোনো ম্যাচই আর হালকা নয়। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারও সুযোগ নেই। সেদিক থেকে উইন্ডিজের বিপক্ষে এ সিরিজ ব্যতিক্রম। সুপার লিগের অংশ না এবং সিরিজ জেতা হয়ে গেছে বলে বেঞ্চের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়াই যেতে পারে। অবশ্য এই সিরিজে ম্যাচ খেলেননি এমন ক্রিকেটার আছেনই মাত্র তিনজন এনামুল হক বিজয়, তাইজুল ইসলাম, এবাদত হোসেন। এদের মধ্যে একমাত্র বিজয়েরই ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা ছিল। বাকি দুজন দলে আছেন ব্যাকআপ হিসেবে।
শেষ ওয়ানডেতে তাদেরও মাঠে নামার সুযোগ মিলতে পারে বলে জানান তামিম, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে ‘বেঞ্চ স্ট্রেংথ’ দেখে নেওয়ার। সাধারণত যখন পয়েন্টসের ব্যাপার থাকে, তখন সুযোগ থাকে না। কিন্তু এরকম সিরিজে যদি ২-০তে এগিয়ে যান, তখন যারা খেলেনি বা যাদেরকে নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরে ঘুরছি, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। এর জন্য আমারও এক-দুই ম্যাচ মিস করতে হলে, হতে পারে। কোনো সমস্যা নেই।’ ব্যাকআপ ক্রিকেটারদের সময়ে সময়ে ম্যাচ খেলানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তামিম আরও জানান, ‘বেঞ্চ স্ট্রেংথ অবশ্যই আমাদের পরীক্ষা করা উচিত। এই একটা জিনিস বাংলাদেশের ক্রিকেটে আমরা খুব কম করি। মাঝেমধ্যে এটা করা খুব জরুরি, বিশেষ করে ওয়ানডেতে। কারণ, কে জানে বড় সিরিজে গিয়ে দুজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোট পেতেই পারে। তখন একটা ছেলে কোনো ম্যাচ অনুশীলন ছাড়া এসে খেললে তার কাজটা একটু কঠিন হয়ে ওঠে।’
ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে বিশ্লেষণেও একই কথা জানালেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তার মতে, ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য বেশিসংখ্যক ক্রিকেটার প্রস্তুত রাখা জরুরি। তাই ব্যাকআপ ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ, ‘শেষ ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক থেকে। এতদিনে এত গুরুত্বপূর্ণ সব ওয়ানডে সিরিজ খেলেছি, যেখানে পয়েন্ট খুব জরুরি। দলে পরিবর্তনের কথা খুব একটা ভাবনায় আনা যায়নি। তবে এখানে সুযোগ আছে পরখ করার। কারণ, ২০২৩ বিশ্বকাপে তাকিয়ে কিছু ক্রিকেটারকে দেখে নেওয়ার ব্যাপার আছে।’
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড রান করে জাতীয় দলে ফেরা এনামুল হক শনিবার সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামবেন, এটা নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় এখন। সঙ্গে সুযোগ মিলতে পারে এবাদতেরও। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একাদশে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনও টিকে যেতে পারেন, ফিরতে পারেন এই ম্যাচে বাইরে থাকা তাসকিন আহমেদ। আর নাসুমকে যদি বিশ্রাম দেওয়া হয় তবে অনেক দিন পর ওয়ানডেতে ফেরা হবে তাইজুলেরও।
