‘উন্নয়নের ট্যাবলেট খাইতে খাইতে শ্রীলঙ্কা বমি কইরা দিছে’

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০৫:৩১ পিএম

উন্নয়ন ট্যাবলেট দিয়ে দেশের  জনগণকে আর ভোলানো ‍যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। 

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের সেমিনার কক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রমনা থানার ১৯ নং ওয়ার্ড এবং শাহবাগ থানার ২১ নং ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়।

এ অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার উন্নয়নের ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষকে। বিদ্যুতে লোডশেডিং করবেন আর উন্নয়নের কথা বলবেন। উন্নয়নের ট্যাবলেট বেশি দিন খাওয়ানো যাবে না।’

 ‘উন্নয়নের ট্যাবলেট খাইতে খাইতে এখন শ্রীলঙ্কা বমি কইরা দিছে, শ্রীলঙ্কা কিন্তু এখন উন্নয়নের ট্যাবলেট খায় না। সেখানে খালি উন্নয়ন বলতে বলতে সব শেষ করে দিয়ে এখন চাকুরি-বাকুরি গোল কইরা দেশের রাষ্ট্রপতি ভাইগা চইলা গেছে সিঙ্গাপুরে। আপনাদের যাওয়ার জায়গা আছে অবশ্য। ঠিকানা বলতে হবে না, আপনার ঠিকানাই আগেই করা আছে।’

চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার ঘোষণা দিয়েছে আগামীকাল থেকে লোড শেডিং শুরু হচ্ছে। ওইদিন বললেন যে, জনগণের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। কুইক রেন্টাল দিয়ে আপনারা বিদ্যুৎ দিয়েছেন, বিদ্যুতের আর অভাব নাই। এখন আবার বলছেন উল্টো কথা- লোড শেডিং করতে হবে। তাহলে এত টাকা দিয়ে কুইক রেন্টাল কেন করলেন?’

‘যেই কারণে বিদ্যুৎ নাই। যারা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক তারা কিন্তু বসে বসে টাকাটা পাবেন, বিদ্যুৎ থাকুক বা না থাকুক, বসে বসেই টাকা পাবে তারা। এখন আমাদের প্রশ্ন তাহলে এত টাকা নিয়ে কুইক রেন্টাল পাওয়া প্ল্যান্ট কেন করা হলো? এত টাকা নিয়ে পরিবেশ নষ্ট করে কেনো সুন্দরবনের রামপালে বিদ্যুত কেন্দ্র করা হচ্ছে?’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টালের নামে এত চুরি করার পরেও যদি লোড শেডিং হয় আমার তো মনে হয় এই লোড শেডিংই সরকারের ক্ষমতা ত্যাগের কারণ হতে পারে। এভাবে মানুষ কিন্তু অসহিষ্ণু হচ্ছে, সাধারণ মানুষ অসহিষ্ণু হচ্ছে।’

এ সময় এলাকা থেকে বের করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যর্থতার সমালোচনাও করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে যদি বিদেশ থেকে তৈরি করা নির্বাচন কমিশন নিয়ে আসা হয় তবুও এই  সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন হবে না। এখানে পুলিশ প্রশাসন, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেখানে দলীয়করণ করা হয়েছে সেখানে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাওয়া যাবে না।’

ডলার সংকট প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ট্রাংকে ট্রাংকে ভর্তি করে এই এয়ারপোর্ট দিয়ে বাংলাদেশের বহু ডলার বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। সেইদিন পত্রিকায় আসলো যে, সুইস ব্যাংকে ৩/৪ হাজার কোটি ডলার রেগুলার জমা হচ্ছে। আমার দেশের ডলার যদি সুইস ব্যাংকে চলে যায় এ দেশের মানুষ বাঁচবে কীভাবে।’

মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও এমএ হান্নানের পরিচালনায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক  আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা ও মোশাররফ হোসেন খোকন বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত