ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদ হারালেন যুবলীগ নেতা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২২, ০৬:৫৫ এএম

ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদ হারিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন খন্দকার। গত রবিবার রাতে জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক রিটন রায় স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মহসিন খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করায় মহসিন খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত এই যুবলীগ নেতার দাবি, সিলেট অঞ্চলের বন্যাকবলিতদের সহায়তার জন্য গঠিত তহবিলে ত্রাণ বিতরণ না করে সেই টাকায় পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মহসিন খন্দকারকে বহিষ্কারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি গত ১৬ জুলাই নিজের ফেইসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে ও লাইভে এসে বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী একাধিক মামলা থাকায় জেলা ও সদর উপজেলা যুবলীগের যৌথসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহসিন খন্দকারকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসের যৌথ স্বাক্ষরে মহসিন খন্দকারকে বহিষ্কারের চিঠি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তবে বহিষ্কৃত নেতা মহসিন খন্দকারের দাবি, ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে সত্য কথা বলায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেটে বন্যা শুরু হওয়ার পর যুবলীগের সভা হয়। সেখানে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য উপস্থিতদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আমাকে ১০ হাজার টাকা দিতে বলা হলে আমি ৫ হাজার টাকা বন্যার্তদের ত্রাণ দিতে সহায়তা করি। টাকা নেওয়ার পরও একদিকে ত্রাণ না দেওয়ায় এবং অন্যদিকে সিলেটে পানি কমে আসায় আমি সুহিলপুর ইউপির কিছু এলাকায় বন্যাকবলিতদের ত্রাণ দিতে বলি। প্রয়োজনে আমি আরও ১৫-২০ হাজার টাকা দিতে চাই। কিন্তু তারা কোনো প্রকার ত্রাণ বিতরণ না করে এই টাকায় পদ্মা সেতু দেখতে গেলেন। এ নিয়ে আমি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছি। সত্য কথা বলায় আমাকে বহিষ্কার করেছে।’

অবশ্য জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসের দাবি, যথাযথ কারণেই মহসিন খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সে (মহসিন খন্দকার) বিপথগামী ছেলে। সে ফেইসবুকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও ভাবমূর্তি নষ্টের পোস্ট দিয়েছে, লাইভ করেছে। তা ছাড়া যুবলীগ নেতাকর্মীরা পদ্মা সেতু দেখতে যায়নি। একজন আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গিয়েছে। পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার খরচ তারা নিজেরা মিটিয়েছে। মহসিন বারবারই যুবলীগের সুনাম নষ্ট করছে অপকর্মের মাধ্যমে। তার সঙ্গে যুবলীগের সম্পর্ক না রাখার জন্যই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কোনো অপকর্মের দায় তো যুবলীগ নেবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত