প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেবী মওদুদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই ৬৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তার আনুষ্ঠানিক নাম এ এন মাহফুজা খাতুন হলেও সবাই তাকে বেবী মওদুদ নামেই চিনতেন।
নবম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বেবী মওদুদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পাদনাতে বিশেষ ভূমিকা ছিল বেবী মওদুদের।
এ ছাড়া ১৯৪৭ থেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তৎকালীন গোয়েন্দা তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের গবেষণা ও সংকলনের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বেবী মওদুদ ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল মওদুদ ছিলেন একজন বিচারপতি। মায়ের নাম হেদায়েতুন নেসা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
১৯৬৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। দৈনিক সংবাদ, বিবিসি, দৈনিক ইত্তেফাক, বাসস ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় দীর্ঘদিন কাজ করার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে যোগ দেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার দিনগুলোতেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন বেবী মওদুদ।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। লিখেছেন শিশু-কিশোরদের জন্যও। তার শিশুতোষ বইয়ের মধ্যে রয়েছে দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিল আনু, মুক্তিযোদ্ধা মাণিক, আবু আর বাবু এবং কিশোর সাহিত্য সমগ্র।
নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে মরণোত্তর রোকেয়া পদক পান বেবী মওদুদ।
