অমিত হাবিব সর্বশেষ বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় আমাদের সবার কাছ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চির বিদায় নিয়েছেন। ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমি নিজে উনাকে দাদা বলে সম্বোধন করতাম। কখনো অমিত ভাই বলিনি। প্রায় সব জায়গায় অমিত দা কিংবা দাদা হিসেবে সম্বোধন করেছি। তার বাছে কেউ ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত না হলে তার সম্পর্কে তিনি একান্তভাবে বিস্তারিত জানতে চাইতেন।
আমিও যায়যায়দিন পত্রিকা থেকে পরিচয়ের সূত্র ধরে যতটুকু সান্নিধ্যে পেয়েছি তার সবিস্তর বর্ণনা করতাম।
তিনি এতটাই প্রাণবন্ত আড্ডায় মত্ত হতেন যা এককথায় বলে কিংবা লিখে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে না, এখানে অন্তর আত্মার প্রয়োজন আছে।
তিনি যখন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা নির্বাহী সম্পাদক, তখন সপ্তাহের প্রায়দিনই কোনো না কোনো সময় আমারও যাওয়া হতো। আমি আমার প্রিয় আরেক সিনিয়র সাংবাদিক তখনকার সময়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা উপ-সম্পাদক এনাম আবেদীনসহ আড্ডা শুরু হতো সঙ্গে দাদার আরো সহকর্মী যুক্ত হতেন। তাদের মধ্যে মাহবুব, মোস্তফা, আরিফুজ্জামান ও শফিক সাফিও সঙ্গী হতেন।
দেশ রূপান্তরে সময় ও সুযোগের অভাবে যাওয়া কম হয়েছে। পত্রিকার গত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গুলশান হোটেল ওয়েস্টিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারের সাথে গিয়েছিলাম।
আমাদের নিয়ে যখন দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক রেজাউল করিম লাবলু মঞ্চের কাছে গেলেন তখন অমিত দা আমাদের দেখে খুশি হয়ে যে মুচকি হাসি হেসেছিলেন তা আমার চোখের সামনে এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছে।
এই হাসি প্রাণবন্ত আড্ডা আর আমাদের কারো সাথে কখনো হবে না এটাই জগতের চিরন্তন। তিনি বেহেশতবাসী হন এ দোয়াই আমরা করছি।
শায়রুল কবির খান: সাংবাদিক ও সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল।
