সোহানের নেতৃত্বে নতুন যুগের ক্রিকেটে টাইগাররা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২২, ০৪:৫৮ পিএম

টি-টোয়েন্টি যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ ২০০৬ সালে। শাহরিয়ার নাফিজের নেতৃত্বে ক্রিকেটের নতুন যুগ শুরু হয় টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে নিয়েছিল ৪৩ রানে। দেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। ছিলেন সাকিব-মুশিও। রিয়াদ ও তামিমের তখনও অভিষেক হয়নি। তারপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ বছর। হয়েছে নানা বাক-বদল। এক যুগের বেশি সময় পর ফের নতুন এক যুগ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ সেই জিম্বাবুয়েই।

হারারেতে বিকেল ৫টায় সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল। নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন দলে নেই পঞ্চপান্ডবদের একজনও।

ষোল বছর আগে ২৮ নভেম্বরে নতুন বাংলাদেশের কারণটা সহজেই অনুমিত। সেদিনই প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নামে বাংলাদেশ। হাবিবুল বাশার তখনও ওয়ানডে ও টেস্ট দলের অধিনায়ক। কিন্তু তরুণদের নিয়েই সেদিন মাঠে নামে বাংলাদেশ। ফলও পায় হাতে নাতে। ষোল বছর পর ফের এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে আজ মাঠে নামছে টাইগাররা। বিসিবিও তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। নিজের সেরাটা দিয়ে খেলার কথাই জানিয়েছে। জয়ের চেয়ে শেখাটাকেই মুখ্য করে দেখছে ক্রিকেট বোর্ড।

তবে টাইগারদের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এ দলটিকে তরুণ মানলেও নতুন দল মানতে নারাজ। এমনকি তিনি শিখতে নন, ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।

এক প্রশ্নের জবাবে সোহানে কণ্ঠে শোনা গেল, ‘আমরা জানি সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারি। তবে সেজন্য আমরা তৈরি। আপনি হয়তো বলতে পারেন এটি তরুণ দল। তবে আমরা শিখতে আসিনি, জিততে এসেছি’।

নিজেদের অনভিজ্ঞও মানতে নারাজ সোহান বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন না যে আমরা অনভিজ্ঞ দল। কারণ অনেক খেলোয়াড়ই ৬-৭ বছর ধরে খেলছে। তাই আমার মনে হয় অভিজ্ঞতা ঠিক আছে। কন্ডিশন হয়তো একটু আলাদা। তবে এটি অজুহাত হতে পারে না’।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের চিরায়ত সমস্যার একটি হলো পাওয়ার হিটিং। দেশ ছাড়ার আগে দলের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান সরাসরিই বলেছেন, তারা চাইলেও আন্দ্রে রাসেল বা কাইরন পোলার্ড হতে পারবেন না। একই মত সোহানেরও।

তবে পাওয়ার হিটিংকে এক পাশে সরিয়ে রেখে নিজেদের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলার প্রত্যয় সোহানের, ‘আমরা আমাদের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট খেলতে চাই। অনেক দল আছে যারা পাওয়ার হিটিংয়ে এগিয়ে। তবে আমরা যদি বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে সবসময়ই সুযোগ থাকবে।

সামনে বিশ্বকাপ। এই জিম্বাবুয়ে সিরিজ হতে পারে ইমন, বিজয়দের জাতীয় দলে জায়গা পাকা করে নেওয়ার বড় সুযোগ। সেটা করতে পারলে বড় মঞ্চেও নতুন এক বাংলাদেশকে দেখা যাবে। ষোল বছর আগের স্মৃতি ধরে হয়তো উড়তে পারে নতুনের কেতন।

 

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ইমন, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত