বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল একাধিক অশুভ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য: পরশ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫২ পিএম

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল একাধিক অশুভ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে।

সোমবার শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে কোরআন খতম, দোয়া ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরশ বলেন, প্রথমত অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি; দ্বিতীয়ত তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করা মেনে নিতে পারেনি। তারা পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের জন্য একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন মেনে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, সর্বশেষে দক্ষিণ এশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো জাতীয়তাবাদী নেতার উত্থান এবং বিশ্ব নেতা হয়ে ওঠা তারা মেনে নিতে পারে নাই। তাই নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ড গণহত্যার শামিল। কারণ সেদিন নারী-শিশু নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ছিল সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য সম্পূর্ণরূপে উদিত হওয়ার পূর্বেই আকস্মিকভাবে অস্তমিত করা হয়েছিল। নস্যাৎ করা হয়েছিল বাঙালির দুই শতাধিক বছরের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা কোন সাধারণ হত্যাকাণ্ড ছিল না। এই মাসে বাংলার ইতিহাসে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ন্যক্কারজনক এবং জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর।

তিনি বলেন, সেই হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পায়নি ৪ বছরের শিশু সুকান্ত বাবু, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল ও আরিফ সেরনিয়াবাত। রক্ষা পায় নাই মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আমার মা আরজু মণি সেরনিয়াবাতসহ নিরীহ অবলা নারী সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. হাবিবুর রহমান পবন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা. বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, সাইফুর রহমান সোহাগ, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীসহ কেন্দ্রীয় অন্য নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত