কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশ হস্তান্তর হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। তবে বিষয়টি জানে না হল প্রশাসন। ফলে এ অংশে বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনাসহ বিশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউই। নিজ দায়িত্বে সেখানে ওঠা শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে।
২০১৬ সালের ৩১ মে ১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশের কাজ শুরু করে স্টার লাইট সার্ভিস লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর পর প্রকল্পের ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচও ১২ থেকে ১৩ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রকল্পটি ১৫ মাসের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর গত ৩০ জুন কিছু কাজ বাকি রেখেই হ্যান্ড অ্যান্ড টেকওভার কমিটির নিকট সেটি হস্তান্তর করা হয়। তবে হলের সম্প্রসারিত অংশ হস্তান্তর হয়েছে কি না জানে না স্বয়ং হল কর্র্তৃপক্ষ। তাই এ অংশের কোনো দায়িত্ব নিতে পারছে না তারা। তবে এর আগেই নিজ উদ্যোগে হলে উঠে যায় শিক্ষার্থীরা। এ নিয়েও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি হল প্রশাসন। এ জন্য অবশ্য হল কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।
হলটি হস্তান্তর করা হয়েছে দাবি করে দায়িত্বরত ঠিকাদার আমির হোসেন মিলন বলেন, ‘আমার কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে। গত ৩০ জুন অফিসিয়ালি হলটি হস্তান্তর করে দিয়েছি। এখন তো শিক্ষার্থীরা, হল প্রশাসন ব্যবহার করছেন। তবে কিছু কাজ বাকি থাকলে বা কোথাও কোনো অসুবিধা দেখলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে দিচ্ছি।’
হ্যান্ড অ্যান্ড টেকওভার কমিটির আহ্বায়ক কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যতটুকু কাজ বুঝে পেয়েছি, ততটুকু কাজ হ্যান্ডওভার নেওয়া হয়েছে। বাকি যে কাজ রয়েছে তা প্রকল্প পরিচালককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো কাজ অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে বিল কেটে রাখবেন পিডি (প্রকল্প পরিচালক)।’ তবে হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাননি দাবি করে প্রাধ্যক্ষ ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হলটি এখনো বুঝে পাইনি। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলে হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাব।
হলের সরঞ্জামাদি চুরির বিষয় জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, হস্তান্তরের পূর্বে কোনো সরঞ্জামাদি চুরি হলে সেটার দায়ভার আমাদের নয়। হস্তান্তর করার সময় আমরা সরঞ্জামাদি ঠিকঠাক বুঝে নেব। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. আবদুল মঈন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ৩০ জুন প্রজেক্টটা হ্যান্ডওভার করা হয়েছে। হল প্রভোস্ট কেন বলছেন আমি বলতে পারছি না। উনি আমাকেও বলছেন বিষয়টি। হল হস্তান্তরের বিষয়ে কেন দুই ধরনের কথা হচ্ছে, তা আমি জানি না।’
