বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তান বিক্রি করতে বাজারে তুলছেন একজন মা।
রোববার (১৪ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, লুটপাট ও বিদেশে পাচারের জন্য সরকার গত সপ্তাহে মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ বাড়িয়ে দেয়। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর দিনেই বেড়েছে আস্বাভাবিক পরিবহন ভাড়া। এর প্রভাব পড়ছে এখন বাজারে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি দ্রব্যের অগ্নিমূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের।
পণ্যমূল্য নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শাসকগোষ্ঠীর লুটপাট আর দুর্নীতির পর মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ৫০ শতাংশ থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
রিজভী বলেন, বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষির পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তান বিক্রি করে দিচ্ছে মানুষ। খাগড়াছড়ির পারুল চাকমা তার একমাত্র সন্তানকে মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাজারে তুলেছে। পৃথিবীতে মনে হয় এর চেয়ে সস্তা আর কিছুই হতে পারে না। এত সস্তা মানুষের জীবন তাও বিক্রি করতে পারছে না। ইতিহাসের অমানবিক দাসপ্রথা বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। নিরুপায় হয়ে ছিনতাই করতে নেমে পড়েছে কেউ কেউ। ডিমের ট্রাকও ছিনতাই হচ্ছে। ভর্তা আর কাঁচামরিচ দিয়ে ভাত খাওয়ার সামর্থ্য হারাচ্ছে মানুষ। বেঁচে থাকার জন্য মানুষ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সব খরচ কমিয়ে দিয়েছে। পুঁজি ভেঙে ও ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে। নিদারুণ কষ্টে মানুষ জীবনযাপন করছে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আগস্ট মাসটা যাইতে দেন তারপর টের পাবেন কত ধানে কত চাল। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা রাজপথে এখনো নামিনি, আগামী মাসে পরিপূর্ণভাবে নামব। রাজপথে নামলে বিএনপি পালানোর জায়গা খুঁজে পাবে না। তাদের কীভাবে গর্তে ঢুকাতে হয় সেই ওষুধ আমাদের জানা আছে। প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হবে। তাদের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা কতটা হিংস্র শাপদীয় চরিত্রের। লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা, গান পাউডার ছিটিয়ে বাসযাত্রী হত্যা, গুম খুন যাদের অভ্যাস তাদের মুখেই কেবল এই ধরনের ফ্যাসিবাদী হুঙ্কার শোনা যায়। যদি মুরোদ থাকে পুলিশলীগের বেষ্টনী ছেড়ে রাজপথে নামেন। জনগণের উত্তাল প্রতিরোধে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পাবেন না। তবে দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। জনগণ রাজপথে নেমেছে। আপনাদের এহেন বক্তব্য পতনের পূর্বে আর্তচিৎকার। শ্রীলঙ্কার চাইতে পরিণতি করুণ হবে আপনাদের।
রিজভী বলেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের এসপি নানাভাবে হয়রানি হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বায়ক জানাচ্ছি।
