কলেজশিক্ষিকা খায়রুন নাহারের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।
শিক্ষিকার স্বামীর দাবি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তার দাবি, ছয় লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম সংসারের বড় ছেলের সঙ্গে খায়রুন নাহারের মনোমালিন্য ছিল। এজন্য তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফলে আত্মহত্যা করেন। তবে এ ঘটনাকে ‘হত্যা’ বলে দাবি করেছেন খায়রুন নাহারের স্বজনরা।
কলেজশিক্ষিকা খায়রুন নাহারকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, অধ্যাপিকা খায়রুন নাহারকে মনে হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার বয়সে-ছোট স্বামী মামুন। স্বামী কেন বয়সে ছোট, এটি ছিল খায়রুনের অপরাধ। পুরুষেরা যখন বয়সে-ছোট মেয়েদের বিয়ে করে, তখন তো সেই সব পুরুষকে মানুষ অপমান করে না! এখন তো লোকে বলবে, পুরুষকে স্ত্রীর চেয়ে বয়সে বড় হতেই হয়, এটিই সমাজের নিয়ম। না, এটি সমাজের নিয়ম নয়।এটিকে নিয়ম বানানো হয়েছে, কিন্তু এক তুড়িতে নিয়ম বদলে যেতে পারে। নিয়ম মানুষই তৈরি করে, নিয়ম মানুষই ভাঙে।
স্ত্রী বয়সে বড় হবে, একে যদি মানতে না পারো, তাহলে তোমরা তোমাদের প্রিয় নবীর সঙ্গে বিবি খাদেজার বিয়েও মানো না। তোমরা তো তবে মুসলমানই নও। তোমাদের নবী যে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন, সেই পথেই তো হাঁটতে চাও। তাহলে স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় স্ত্রীকে মেনে নিতে পারো না কেন? আমার মনে হয় না মানুষের মানা না মানা নিয়ে খায়রুন নাহারের কোনও সমস্যা ছিল। তিনি সমাজের লোকদের বদ চরিত্রের কথা জেনেই তো মামুনকে বিয়ে করেছিলেন। এমন আত্মবিশ্বাস যার, তিনি আত্মহত্যা করবেন কোন দুঃখে!
ময়নাতদন্ত বলছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মামুন সাহেব স্ত্রীকে হত্যা করে রাত দুটোর সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে সকাল ছয়টায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না ঝুলিয়ে আগুনে ওড়না আর ফ্যানের কিছুটা পুড়িয়ে একটি আত্মহত্যার দৃশ্য হয়তো সাজিয়েছেন। হয়তো রাতে যেখানে ছিলেন, সেখান থেকেই এই বুদ্ধিটা নিয়ে এসেছেন।
যেহেতু খায়রুনের ওপর সমাজ ক্ষিপ্ত ছিল, মামুনকে বয়স্ক নারীর ভিকটিম হিসেবে দেখেছে, তাই মামুনের শাস্তি হোক তা হয়তো লোকেরা চাইবে না। ছলে কৌশলে মামুনকে বাঁচাবার চেষ্টা চলবে। প্রশ্ন হলো মামুন কেন খুন করবে খায়রুনকে? খায়রুনের দয়ায় সে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান তো পেয়েছে, এমনকী মোটরসাইকেল পেয়েছে, পড়ালেখার খরচ পাতি পেয়েছে। খায়রুন বেঁচে থাকলে আরও সুযোগ সুবিধে পেত। নিশ্চয়ই কোনও বদ উদ্দেশ্য তার ছিল খায়রুনকে হত্যা করার।
আমি ভুল হতে পারি। কিন্তু খবর যা পেয়েছি, তা শুনে এমনই মনে হলো।
এদিকে, খায়রুন নাহার ‘ফাঁসিতে আত্মহত্যা’ করেছেন বলে প্রাথমিক পরীক্ষায় পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সামিউল ইসলাম শান্ত জানান, মৃতের গলায় অর্ধ চন্দ্রাকৃতির কালচে দাগ পাওয়া গিয়েছে; যেটা ফাঁসিতে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেউ হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখলে গলায় গোলাকার দাগ থাকে। আরও কিছু ল্যাব পরীক্ষা বাকি আছে। সবকিছুর ফল পাওয়ার পর একসঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
পুলিশের সুরতহাল পরীক্ষায় পাওয়া লক্ষণেও আত্মহত্যার ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ।
রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়ায় মোল্লা ম্যানশনের ভাড়া বাসা থেকে গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ডিগ্রি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৪২ বছর বয়সী খায়রুন নাহার গত বছরের ডিসেম্বরে কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী মামুন হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
