তফসিল ঘোষণার আগেই মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৪ এএম

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে সম্প্রতি শূন্য হয় গাইবান্ধা-৫ আসন। এখনো তফসিল ঘোষণা করা না হলেও নদীভাঙনে জর্জরিত ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই আসনে উপনির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ঘোষণা হতে পারে তফসিল। তবে এর আগেই প্রচারণার মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বিরোধী দল বিএনপির কাউকে এখনো প্রচারণার মাঠে দেখা না গেলেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দিন-রাত চালাচ্ছেন গণসংযোগ। আবার দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকে ব্যস্ত তদবিরে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন চার নবীন-প্রবীণ প্রার্থী। তবে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করলে আসনটি জাপার (এরশাদ) হাতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এই আসনে স্বাধীনতার পর থেকে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচবার জাতীয় পার্টি, চারবার আওয়ামী লীগ ও দুইবার বিএনপি জয় পেয়েছে। রাজনৈতিক কারণে বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে এখানে জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।

এই আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হেভিওয়েট চার প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, প্রয়াত ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলি ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লুদমিলা পারভীন ছন্দা রাব্বী এবং ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ। তবে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন মাহমুদ হাসান রিপন ও ফারজানা রাব্বী বুবলি।

ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ধারায় বিভক্ত ছিল। দুই উপজেলাতেই ছিল আলাদা কমিটি। একটি ফজলে রাব্বী মিয়া সমর্থিত, অন্যটি মাহমুদ হাসান রিপন সমর্থিত। গত ১৫ মার্চ ফুলছড়ি ও ১৭ জুন সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে এই দুই কমিটিকে সমন্বয় করে এক করা হয়। তার মধ্যে ফুলছড়িতে সভাপতি মনোনীত হন মাহমুদ হাসান রিপনের আস্থাভাজন জি এম সেলিম পারভেজ এবং সাধারণ সম্পাদক হন ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলি। অন্যদিকে সাঘাটায় সভাপতি মনোনীত হন মাহমুদ হাসান রিপনের আস্থাভাজন এস এম সামশীল আরেফিন টিটু এবং সাধারণ সম্পাদক হন ফজলে রাব্বী মিয়ার আস্থাভাজন নাছিরুল আলম স্বপন।

ফুলছড়ি ও সাঘাটার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ধারণা, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করলে আসনটি জাতীয় পার্টির (জাপা) হাতে চলে যেতে পারে। কারণ উপনির্বাচনে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক আতাউর রহমান সরকার এবং সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতি ও পরপর দুইবারের নির্বাচিত সাঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম শহীদ রঞ্জু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন চাইবেন জাতীয় পার্টির কাছে।

এ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে সাঘাটা-ফুলছড়ির ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। মনোনয়ন পেলে ও উপনির্বাচন সুষ্ঠু হলে, আসনটি জাপাকে ফিরিয়ে দিতে পারব।’

গোলাম শহীদ রঞ্জুও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী। আর মনোনয়ন পেলে জয় পাবেন বলে মনে করছেন।

উপনির্বাচনের জন্য বিরোধী দল বিএনপির কাউকে এখনো প্রচারণার মাঠে দেখা না গেলেও দলটি থেকে উপজেলা পরিষদ ও গত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফারুক আলম সরকার মনোনয়ন চাইতে পারেন। যিনি আগে কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবাই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তাদের মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে ফুলছড়ির অনেক উন্নয়ন করেছি। সংসদ সদস্য হলে উন্নয়ন করার পথ আরও সহজ হবে।’

লুদমিলা পারভীন ছন্দা রাব্বী জানান, তার স্বামী প্রয়াত ফজলে রাব্বী মিয়ার ছোট ভাই ফরহাদ রাব্বীর সিদ্ধান্তেই দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছি। তবে মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না।’

আর প্রয়াত বাবার অপূর্ণ থেকে যাওয়া স্বপ্ন পূরণ করতে জনপ্রতিনিধি হতে চান বলে জানিয়েছেন ফারজানা রাব্বী বুবলি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাবা সাতবার সংসদ সদস্য ও দুইবার ডেপুটি স্পিকার থাকাকালে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সাঘাটা-ফুলছড়ির অনেক উন্নয়ন করেছেন। বাবা সাঘাটা-ফুলছড়িকে মডেল টাউন করার যে স্বপ্ন দেখতেন, তা পূরণ করতেই আমার রাজনীতিতে আসা।’

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, ‘বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। তবে মনোনয়ন না পেলেও সক্রিয় থেকে দলকে সুসংগঠিত ও চাঙা রেখেছি। আমি আশা করি, আসন্ন উপনির্বাচনে দল তৃণমূলের মতামত নিয়েই সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত