প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছার প্রতিধ্বনি হচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মুখপাত্র হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এত বড় কথা বললেন, আর বলবেনই না কেন? একজন রসিক মানুষ আমাকে বললেন তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাণ্ড জ্ঞানহীন হয়ে পড়েছেন। দেশের এত লুটপাট করে স্বর্গে বসে তিনি মনে করছেন সবাই স্বর্গে আছে। প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। তাদের তৈরি করা নরকে আছে দেশের জনগণ। আর তারা বেহেশতে থেকে এসব বুঝবে কেমনে? বেহেশতে তো হুরপরী থাকে তাদের আবদ্ধে থেকে তারা তো আবোল তাবোল বলবেই।
আজ শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও জ্বালানি তেল এবং দ্রব্য মূল্যের সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধি ও ভোলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) উদ্দ্যোগে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপন্থি বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আজ যারা এই দুঃসময়ে টকশোতে বসে স্বাধীনতার চেতনার নামে সরকারের গুণগান গায়, ভুয়া নির্বাচন, অসংখ্য বিচার বর্হিভূত হত্যা একজন সংসদ সদস্যসহ অসংখ্য গুম, এত কিছুর পরেও ওই সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা সরকারের গুণগান গায় তাদেরকে বলবেন এত যে ঘটনা ঘটাচ্ছে এ বিষয়ে আপনাদের মতামত কি? তারা বলবে না। কারণ তারাও গুম খুন বিচারবহির্ভূত হত্যা ভুয়া নির্বাচন এসবের সমর্থকারী।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ভারত একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। আমাদের পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে একসাথে লড়াই করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে তারা গণতন্ত্র চর্চা করেছে। আমার বিশ্বাস তারা সেই ভুল করবেন না। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে সুজাতা সিং কে পাঠিয়ে নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার পক্ষে এরশাদকে রাজি করানোর জন্য সারা বিশ্ব দেখেছে এটা কিছুটা হলেও গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বেয়াকব পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন, তাদের নিজেদের স্বার্থে সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে পারে তারা সবকিছুই করতে পারে। এর আর একটা কারণ আছে এই মোমেন সাহেব ছাত্র অবস্থায় আইয়ুব খানের ছাত্র সংগঠন করতেন। সে অখণ্ড পাকিস্তান বিশ্বাস করতেন। এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তার অতীতের যে নীতি সে নীতির সাথে আওয়ামী লীগের নীতি মেলে না। তাই আওয়ামী লীগের নীতি বেশি করে প্রচার করার জন্য এবং নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার করার জন্য এসব কথা বলছেন।
তিনি আরো বলেন, তাদের এক মন্ত্রী বলেছেন এটা তাদের দলের না ব্যক্তিগত কথা। কিসের ব্যক্তিগত কথা? আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একের পর এক ফাউল কথা বলে যাচ্ছে, দেশের সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রকে তলানীতে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আর আপনারা বলছেন ব্যক্তিগত তাকে তো সাথে সাথে বরখাস্ত করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা তা করছেন না। কারণ তাকে আপনাদের দরকার আছে। আপনাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছার প্রতিধ্বনি প্রকাশিত হচ্ছে তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে এক অশনি সংকেত মনে হচ্ছে। এরা আওয়ামী লীগ খুব খারাপ কিছু করার চেষ্টা করছে। আমাদের শক্তির উৎস হচ্ছে দেশের জনগণ। এর আগে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন এখন বলছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। তাই এদেশের সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা এক একজন সৈনিক।
ইউট্যাবের সভাপতি এবি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মোরশেদ হাসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
