ঢাবিতে ফেসবুক পোস্টের জেরে শিক্ষার্থী হলছাড়া

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ০৬:৩৯ পিএম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী সাকিব মিয়াকে হলছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রলীগ কর্মীদের চাপে ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে হল ছেড়েছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, হল ছাত্রলীগের কর্মী আবু হাসান রনি এবং মশিউর রহমান শান্ত ফেসবুকে লেখা বন্ধ না করলে হলছাড়া করার হুমকি দেন। পরে হল ছেড়ে রাজধানীর আজিমপুরের একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি। 

অভিযুক্ত আবু হাসান ও মশিউর রহমান স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল হকশিশিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

কাজী সাকিব বলেন, ৬ আগস্ট তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন। পোস্ট করার পর আবু হাসান তাকে ফোন করে ডেকে পাঠান। যাওয়ার পর আবু হাসান ও মশিউর তাকে ওই পোস্ট দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন এবং পোস্টটি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। তবে তার টাইমলাইনে পোস্টটি থেকে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘মশিউর রহমান আমাকে বলেন, ছাত্রলীগের ঘরে থেকে ছাত্রলীগের সমালোচনা করা যাবে না। ছাত্রলীগের সমালোচনা করে হলে থাকা যাবে না এবং ছাত্রলীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না। পরে শাস্তি হিসেবে আবু হাসান ও মশিউর আমাকে হলের মূল ভবনের ১১২ নম্বর কক্ষ থেকে এক মাসের জন্য বর্ধিত ভবনের ১০২২ নম্বর কক্ষে পাঠিয়ে দেন। শর্ত ছিল, হলে থাকলে ছাত্রলীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যা ন্যায্য ও সত্য, তা ফেসবুকে লিখতে আমি ভালোবাসি। তাই বাধ্য হয়েই ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে হল ছেড়ে আজিমপুরে ভাড়া বাসায় উঠেছি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হল প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি সাকিব। এ ধরনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাই অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে আবু হাসান ওরফে রনি কাজী সাকিব মিয়াকে হল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমরা তাকে অন্য কক্ষে যেতে বলেছিলাম।’

এ ব্যাপারে মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হোসেন জানান, ‘কাজী সাকিব হল সভাপতি শহিদুল হকের গ্রুপে ছিলেন। সাকিব হল ছেড়ে দিয়েছে বলে শুনেছি। তবে কেন ছেড়েছে, তা আমার জানা নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, 'অভিযোগ পেলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত