‘সিএমএসএমই খাতে মেয়াদি ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি সই হয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মোঃ নাছের। এছাড়াও ৪৬টি ব্যাংক ও ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও এসএমই প্রধানগণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকসহ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই স্কিমের আওতায় প্রতিটি ব্যাংকের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবিবির সভাপতি সেলিম আর এফ হোসেন এবং বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ (সিএমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে মর্মে উল্লেখ করেন। এ খাতটি শ্রমনিবিড় ও স্বল্প পুঁজি নির্ভর হওয়ায় এবং এর উৎপাদন সময়কাল স্বল্প হওয়ায় আমদানি বিকল্প সেবা/পণ্য উৎপাদনসহ জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বাংলাদেশকে কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে সিএমএসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া, তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পণ্য/সেবা সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধিতে এই স্কিমের অবদান থাকবে মর্মে অবহিত করেন।
অর্থায়নকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন অর্থের বিপরীতে বার্ষিক সুদের হার হবে ২ শতাংশ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে আরোপিত বার্ষিক সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ/বিনিয়োগ এর মেয়াদ হবে ঋণ/বিনিয়োগ এর প্রকারভেদে সর্বোচ্চ ৫ বছর।
ক্লাস্টারভূক্ত সিএমএসএমই উদ্যোক্তাগণকে পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। এতদ্ব্যতীত, নারী উদ্যোক্তা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন উদ্যোক্তা এবং নানাবিধ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। এই স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত মোট ঋণ/বিনিয়োগ এর ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে সামগ্রিকভাবে বিতরণ করতে হবে, এবং সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ) মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা যাবে। বিতরণকৃত মোট ঋণ/বিনিয়োগ এর ন্যূনতম ৭০ শতাংশ উৎপাদন ও সেবা খাতে এবং সর্বোচ্চ ৩০ ত্রিশ শতাংশ ব্যবসা খাতে প্রদান করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই স্কিমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য নিবিড় তদারকি করবে।
