নীলফামারীর ডিমলায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ নিজ অফিসে বসেই প্রকাশ্যে ঘুষ নেন। ঘুষ নেয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নুর মোহাম্মদ শিক্ষকদের সঙ্গে দর-কষাকষি করছেন। এরপর গুনে গুনে ঘুষের টাকা বুঝে নিয়ে সেই টাকা নিজের প্যান্টের পকেটে পুরছেন।
সোমবার (২৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে জানা যায়, যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এই ঘুষের টাকা দিয়েছেন তারা কেউ প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না। তারা ঘটনাটি এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন।
তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এই ঘুষের টাকা লেনদেনের পেছনে রয়েছে বিশাল একটি চক্র।
জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার ৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতে বরাদ্দ এসেছে দুই লাখ টাকা করে মোট এক কোটি ৭৬ লাখ টাকা। রুটিন মেইনটেন্যান্স বাবদ ৯৯ বিদ্যালয় পেয়েছে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও স্লিপ বাবদ ৮৬ লাখ ৮০ হাজারে ৪০ হাজার টাকা করে পেয়েছে ২১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব টাকা চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের হিসাব নম্বরে পাঠানোর কথা ছিল।
সূত্র মতে, বরাদ্দের টাকা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হিসাব নম্বরে আসার তিন দিনের মধ্যে সকল বিদ্যালয়ের হিসাব নম্বরে স্থানান্তরের সরকারি নির্দেশে উল্লেখ করা ছিল। বিদ্যালয়ের হিসাব নম্বর পরিচালিত হয় প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে। কিন্তু ডিমলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ সরকারি কোনো নিয়ম মানেননি। তিনি ৩০ জুনের মধ্যে একটি বিদ্যালয়ের টাকাও ছাড় না করে সব টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রেখে দেন। টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষকদের খবর দিয়েছেন টাকা তুলে নেওয়ার জন্য।
তবে এ ক্ষেত্রে তিনি শর্ত দেন, মেরামত কাজের জন্য ৮৮টি বিদ্যালয়কে ১২ থেকে ২০ হাজার করে উৎকোচ দিতে হবে। পাশাপাশি স্লিপের টাকার চেকের জন্য বিদ্যালয় প্রতি পাঁচ হাজার, রুটিন মেইনটেন্যান্স চেকপ্রাপ্তির জন্য বিদ্যালয় প্রতি ছয় হাজার করে টাকা দিতে হবে।
তবে বিভিন্ন সূত্র জানায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা সর্বমোট ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে জানান, 'উপজেলা ট্রেজারি ও অডিট শাখায় টাকা ছাড়া কাজ করে না। ফলে স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ওই টাকা নিতে হয়। এ টাকা কি আমি আমার বেতন থেকে দিব?'
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'আমি ওই উপজেলার স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকদের কাছে লিখিত অভিযোগ চেয়েছি। তবে সোমবার (২৯ আগষ্ট) বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। একটি ভিডিও হাতে এসেছে। ওই ভিডিওর সুত্র ধরে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
