দিনাজপুরে `শহর রক্ষা বাঁধ' রক্ষার দাবিতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৫ পিএম

ঘাটের নামে দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়ইল নয়াবাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন ঘাট ইজারাদার। সেই বাঁধটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ওই এলাকার হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশু।

রবিবার দুপুর ১২টায় কেটে দেওয়া বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটের বালু কিনে সম্প্রতি সংস্কার করা দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দিয়েছেন ইজারাদার। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁধটি। অবিলম্বে বাঁধটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন চলাকালীন বক্তব্য রাখেন স্থানীয় রাধিকা বালা, কিরন বালা, সুচিত্র রানী, বন্যা রায়, নারায়ন রায়, কালিপদ বর্মন, দুলাল রায় প্রমুখ।

রাধিকা বালা বলেন, ২০১৭ সালে বন্যা এই বাঁধের কয়েকটি অংশ ভেঙে আমাদের পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল। কিছুদিন আগে সরকার এই বাঁধটি সংস্কার করে দিয়েছিল। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা নদীর বালু কিনে নিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে বাঁধটি কেটে দিয়ে ট্রলি বালু নিয়ে যাচ্ছে। বাঁধটি কেটে দেয়ার ফলে আমরা চরম ঝুঁকিতে আছি।

‘সামনে তো আবার বন্যা আসবে, তখন তো আমাদের আবারও পানিতে ডুবতে হবে। প্রশাসন এই জায়গাটিতে নদী খননের বালু বিক্রি করেছি। কিন্তু ইজারাদার তো আমাদের বাঁধ কেটে নিজের রাস্তা তৈরি করছে। আমরা অবিলম্বে এই বাঁধ সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছি।’

কিরন বালা বলেন, ‘আমাদের বাচ্চারা প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করে এই শহর রক্ষা বাঁধ দিয়ে। এই বাঁধটি কাটার কারণে ও বাঁধে ট্রাক্টর চলাচলের ফলে বাচ্চারা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হবে। তাদের ট্রাক্টর চলাচলের কারণে বাঁধ ও রাস্তা দুটোই নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা এখানে বাঁধ কেটে কোনো ধরনের ঘাট করতে দেব না।’

সুচিত্রা রানী বলেন, ‘আমরা এখানে বাঁধ কেটে বালু নিয়ে যেতে দেব না। আমরা অনেকবার এদের বাঁধ কাটতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা কোনভাবে আমাদের কথা শুনেনি। আমরা এই এলাকার বহু লোকজন বসবাস করি। এখানে আমাদের সঙ্গে বহু গরু-ছাগলও বসবাস করে। বন্যা হলে তো আমাদের ডুবে মরতে হবে। আমরা বাঁধটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

দিনাজপুর সদর উপজেলা থেকে সাঈদ নামে একটি ব্যক্তি বড়ইল নয়াপাড়ায় পুনর্ভবা নদী খননের বালুগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে কিনে নিয়েছেন।

তার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদেবার্তা দেয়া হলেও তিনি তার জবাব দেননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, বাঁধ কেটে বালু নিয়ে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি কেউ বাঁধ কেটে বালু নিয়ে যায় তাহলে তিনি অপরাধ করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত