ধর্ষণ মামলায় পলাতক রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র আল মামুন খানকে বরগুনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ সেপ্টম্বর) সকাল ১০টায় বরগুনা পৌর শহরের ডিকেপি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরগুনা সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বরগুনার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার, এসআই হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে আল মামুনকে গ্রেপ্তার করতে বরগুনার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সবশেষ বরগুনা পৌর শহরের ডিকেপি রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিকেপি রোডের যে বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই বাসাটি মেয়রের আগের ড্রাইভার মনির ভাড়া নিয়েছিলো বলে জানা গেছে।
বরগুনা সদর থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার বলেন, এসপি স্যার, সার্কেল স্যার ও ওসি স্যারের নির্দেশনায় আমরা আজ সকাল থেকে অভিযান পরিচালনা করি। প্রথমে বরগুনা সদরের হেউলিবুনিয়া এলাকায় অভিযান চালাই তারপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিকেপি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি।
অভিযুক্ত পুঠিয়ার মেয়রের গাড়িচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মূলত তিনি (মেয়র) বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে ফাঁসিয়েছেন। তিনি গতকাল আমাদের বাসায় এসেছিলেন। আজ সকালে পুলিশ আমার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
বরগুনার পুলিশ সুপার আবদুস ছালাম বলেন, রাজশাহী পুলিশের পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওভার ফোনে পুঠিয়ার মেয়র আল মামুন খানকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। রাজশাহীর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে তারা আসলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, রোববার (৪ সেপ্টম্বর) দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী এক নারী থানায় ধর্ষণের একটি অভিযোগ করেন এবং সোমবার সকালে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী (২৪) পুঠিয়া সদর এলাকার একজন কাঠ ব্যবসায়ীর মেয়ে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত এক বছর আগে পুঠিয়া পৌরসভায় একটি চাকরির জন্য মেয়রের নিকট গিয়েছিলেন ওই নারী। এরপর তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন। এক পর্যায়ে তার এই অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি আমাকে বিয়ের প্রলোভনে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি মেয়র আমাকে চাকরি বা বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি প্রতিবাদ করায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যার কারণে মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
