দুর্দিনে আ.লীগকে আগলে রাখা সাজেদা চৌধুরীর বিদায়

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:০৬ এএম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই। রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৮৭ বছর বয়সে ওপারে পাড়ি জমানো সাজেদা চৌধুরী তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সাজেদা চৌধুরীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ রায়হান জানিয়েছেন, সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর তার নির্বাচনি এলাকা নগরকান্দায় জানাজা শেষে বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরার নানাবাড়িতে জন্ম। বাবা সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ, মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। স্বামী প্রয়াত গোলাম আকবর চৌধুরী। জীবদ্দশায় ৬৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নাম লেখান। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসেন।১৯৬৯-৭৫ পর্যন্ত মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে কলকাতায় স্থাপিত গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭২-৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডসের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। 

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী হাল ধরেন। সে সময় দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর যে কজন একনিষ্ঠ কর্মীদের কাছে পেয়েছিলেন সাজেদা চৌধুরী ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগে ১৯৮৬-৯২ সাল পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সবগুলো কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাজেদা চৌধুরী ১৯৭০-১৯৭৩ মেয়াদে জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩-৭৫ মেয়াদে প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯১-৯৫ সময়কালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে সপ্তম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং সপ্তম জাতীয় সংসদে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সঙ্গে  দায়িত্ব পালন করেন। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের উপনেতা হন।

শারিরীক অসুস্থতায় প্রায় দেড় বছর সংসদে অনুপস্থিত দেখা গেছে সাজেদাকে। একই কারণে দলের নীতি-নির্ধারণী সভায়ও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত