পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ের দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সরকার একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। কিন্তু ২০০১-এ সরকার পরিবর্তন হলে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর কোনো ফলোআপ করা হয়নি এবং সেই সিদ্ধান্তের কপিও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
বলে মন্ত্রী সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানান।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩০তম বৈঠকে কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা যায়। এর আগের বৈঠকে মন্ত্রী এসব বলেন।
মঙ্গলবারের বৈঠকে কার্যবিবরণী গৃহীত হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, ওই সময় পররাষ্ট্রসচিব ছিলেন শফি সামি এবং আমেরিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তারিক করিম। প্রয়োজনে কমিটির পক্ষ থেকে তাদের ডেকে মতামত নেয়া যেতে পারে।
এর আগে ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, প্রতিটি সফরের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসন (আগস্ট মাসে) বাংলাদেশ সফরে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে, আমেরিকায় পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সব সময় আইনি প্রক্রিয়া বলে তারা এড়িয়ে যাচ্ছে।
কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান কমিটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদানকারী দুজন কংগ্রেসম্যানকে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহপূর্বক খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
জানা যায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ওপর রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। কমিটি দেশে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে গঠনমূলক ও ইতিবাচক প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ প্রচার করার সুপারিশ করে।
বৈঠকে ভুটানে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এর সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দ. প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক ও কাজী নাবিল আহমেদ অংশ নেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভুটানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
