ছেলেদের সাফে শিরোপা বাংলাদেশে এসেছিল একবারই। ২০০৩ সালে রজনী কান্ত বর্মনের নেতৃত্বধীন সেই দলটি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও শিরোপা জেতা হয়নি সাবিনাদের। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাফের ফাইনাল খেলতে নামবে লাল সবুজের মেয়েরা। শিরোপা নিয়েই দেশে ফিরতে চায় সাবিনা-সানজিদারা।
কাঠমুন্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে। ম্যাচের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে লম্বা এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য সানজিদা আক্তার।
তার স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে পুরো বাংলাদেশে। দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ সানজিদার স্ট্যাটাসের বন্দনায় মেতেছেন সকাল থেকেই। স্ট্যাটাসে সানজিদা বলেছেন, এবার তাদের শিরোপা জেতার সময় এসেছে। দলের সবাই জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সানজিদা বলেন, ‘বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের হাত ধরে ২০০৩ সালে দক্ষিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিলো বাংলাদেশ। এখনো আমরা সেই গল্প শুনি। বাংলাদেশ ফুটবলের বড় সাফল্যের মহাকাব্যে সেটি উজ্জ্বলতম অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার আমাদের জেতার সময় এসেছে। আমাদের দলের প্রতিটি সদস্য এটি জিততে মুখিয়ে আছে।’
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মেয়ের ফুটবলার হয়ে ওঠার রাস্তা মোটেও সহজ নয় এটা সবারই জানা। উৎসাহের কয়েক গুন বেশি অনুৎসাহিত করার লোক পিছনে লেগে থাকে তাদের। তবে সমাজের সব টিপ্পনী পাশ কাটিয়ে যারা তাদের উৎসাহ দিয়েছে, যাদের জন্য আজকে ফুটবল খেলতে পারছেন তাদের জন্যই নেপালকে হারিয়ে শিরোপা দেশে নিয়ে আসতে চান সানজিদা, ‘যারা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই সকল স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থণের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনী কে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই।’
এই শিরোপা জিতলে পরবর্তীতে মেয়েদের ফুটবলে আসার রাস্তাটা একটু সহজ হবে বলে মনে করছেন সানজিদা। বলেন, ‘আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরো নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই।’
পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ি সানজিদার। ফলে খুব ভালো করেই জীবনযুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় আছে তার। ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের এগারোজন ফুটবলার নয়, যোদ্ধা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সানজিদা বলেন, ‘পাহাড়ের কাছাকাছি স্থানে বাড়ি আমার। পাহাড়ি ভাইবোনদের লড়াকু মানসিকতা, গ্রাম বাংলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের হার না মানা জীবনের প্রতি পরত খুব কাছাকাছি থেকে দেখা আমার। ফাইনালে আমরা একজন ফুটবলারের চরিত্রে মাঠে লড়বো এমন নয়, এগারোজনের যোদ্ধাদল মাঠে থাকবে।’
জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে থাকলেও চেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না। শিরোপা জিততে শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সানজিদা, ‘আমরা জীবনযুদ্ধেই লড়ে অভ্যস্ত। দক্ষিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যাবো। জয় - পরাজয় আল্লাহর হাতে। তবে বিশ্বাস রাখুন, আমরা আমাদের চেষ্ঠায় কোনো ত্রুটি রাখবো না ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।’
