তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আগুনে আরেকবার ঘি ঢালল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারও বলেছেন, চীন যদি তাইওয়ান আক্রমণ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে। গত রবিবার সিবিএসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারের সময় ‘দ্বীপরাষ্ট্রটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা রক্ষা করবে কি না’ এরকম এক প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, ‘হ্যাঁ করবে, যদি সত্যিই এমন কোনো নজিরবিহীন আক্রমণ হয়।’ বাইডেনের এসব মন্তব্যে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে এ পর্যন্ত স্পষ্টতম মত প্রতিফলিত হয়েছে। পেইচিং এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, চীন বাইডেনের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতির নিন্দা ও দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ মন্তব্যের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের কাছে তাদের কড়া অভিমত জানিয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউজ থেকে এ ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গত বছর অক্টোবর মাসের পর থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ নিয়ে তৃতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অবস্থানের বাইরে গিয়ে কথা বললেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে উৎসাহ দিচ্ছে না। আমাদের ‘এক চীন’ নীতি আছে এবং স্বাধীনতার ব্যাপারে তাইওয়ানের সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদের ব্যাপার। আমরা তাদের স্বাধীন হতে উৎসাহিত করছি না, এটা তাদের সিদ্ধান্ত।
বিবিসি বলছে, তাইওয়ান এমন একটি স্বশাসিত দ্বীপ যা চীনের পূর্ব উপকূল থেকে কিছু দূরে অবস্থিত এবং পেইচিং একে তাদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। ওয়াশিংটন এ প্রশ্নে বরাবরই কূটনৈতিকভাবে দুই কূল রক্ষা করে এক কৌশলী অবস্থান নিয়ে আসছে। একদিকে তারা ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলে যা পেইচিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তি। এর অধীনে তারা চীনের একটি মাত্র সরকারকেই
স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের পরিবর্তে শুধু পেইচিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখে। তবে বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলে এবং একটি আইনের অধীনে তাদের কাছে অস্ত্রও বিক্রি করে। এ আইনটিতে বলা আছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এ দ্বীপটিকে অবশ্যই তাদের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দেবে। এ মাসেই তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ১১০ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করতে একমত হয়। চীন ওই ঘটনারও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
এদিকে গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) উপপরিচালক ডেভিড কোহেন বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এ জন্য সেনাবাহিনীকেও সেভাবে প্রস্তুত করছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। তার আগে দ্বীপদেশটিকে শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা করবেন তিনি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে না হলে শক্তি প্রয়োগ করবেন।
সিআইএ এক বিবৃতিতে জানায়, চিনপিং তাইওয়ান দখলে এখনই কোনো আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। তবে তিনি শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের লক্ষ্যে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। সিআইএর উপপরিচালকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সিএনএন বলেছে, তিনি (চীনা প্রেসিডেন্ট) এখনো সেই সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি তার সেনাবাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মানে তিনি যেটা করতে চান সেটা যেন করতে সক্ষম হন। এখন পর্যন্ত তাদের গোয়েন্দা তথ্য সেটাই বলছে।
