কিছু হ্যাচারি মালিক ডিমের দাম অস্থির করেছে: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৫ পিএম

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কিছু হ্যাচারি মালিক ডিমের দাম অস্থির করেছে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি’র) কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে ‘কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা-২০২২’ এর উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ডিম আমদানি নয়, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে সব মন্ত্রণালয়কে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। ডিম আমদানি করলে আমাদের আমদানি নির্ভরতা বাড়বে যা আমরা চাই না। তাই বিদেশ থেকে ডিম আমদানির দরকার নেই। একটু কষ্ট হবে, কম খাব। তারপরও স্থানীয় পর্যায়ে ডিম উৎপাদন করে খেতে হবে। সরবরাহ কমে গেছে বলে দাম বেড়েছে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে নানা চক্রান্ত করে কিছু হ্যাচারি মালিক ডিমের দাম অস্থির করেছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, তাই ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের উচিত হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, মার্কেটিং বিভাগ কঠোরভাবে মনিটরিং জোরদার করা। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে এটিকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে উন্নয়নের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এটা ধরে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম তুলনামূলক কমেনি। সারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেশি। ইউরিয়া সারের দাম কমে ছিল, গতকাল (বুধবার) আবার তা বেড়েছে। টিএসপি, পটাশিয়াম প্রত্যেকটা সারের দাম তিন গুণ, চারগুণ। ২৫০-৩০০ ডলারের সারের দাম ১ হাজার ডলার। কাজেই ওইভাবে কমেনি, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো চরম অস্থিরতা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের অনেক উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব প্রযুক্তির অধিকাংশই কৃষকের কাছে সেভাবে পৌঁছায়নি। তাই দেশের কৃষির উন্নয়নে এসব জাত ও প্রযুক্তি দ্রুততর সময়ের মধ্যে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আয় বাড়াতে হবে। কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা না গেলে দেশের কৃষির উন্নয়ন হবে না। আমরা বলছি দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু আমাদের শুধু দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে হবে না, অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার ভোজ্য তেল এবং ৫-৭ হাজার কোটি টাকার ডাল আমদানি করতে হয়। আমরা আগামী ৪ বছরের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ভোজ্য তেলের উৎপাদন ৪০% বাড়াতে চাই। এতে আমাদের প্রায় ১০-১২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রযুক্তিকে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়ে বলেন, আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

গত অর্থবছর যে সকল গবেষণা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছিল সেগুলোর মূল্যায়ন এবং এসব অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার কারিগরি অধিবেশন আগামী ১৩-১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. রুহুল আমিন তালুকদার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আ. গাফ্ফার খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত